ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো শক্তিশালী: মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা সত্ত্বেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এখনো অক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও টিকে আছে।

একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার ড্রোন রয়েছে, যা প্রয়োজনে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। এমনকি কিছু লঞ্চার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা মাটির নিচে চাপা পড়লেও সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি—ফলে ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আরও জানা গেছে, ইরানের ড্রোন শক্তির প্রায় ৫০ শতাংশ এখনো কার্যকর অবস্থায় আছে। অর্থাৎ, তাদের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন মজুত রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশেষ করে ক্রুজ মিসাইল—বেশিরভাগই অক্ষত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা তুলনামূলক কম হওয়ায় এসব অস্ত্র রক্ষা পেয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাফল্যের দাবি করেছে। ২ এপ্রিল দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে এবং তাদের অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। এতে বোঝা যায়, ইরান এখনো তার উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত