মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নে এক অনন্য সামাজিক সংহতির চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সরকারি উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত এক কাঁচা সড়ক সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন গ্রামবাসী। কোনো সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে, প্রবাসীর অর্থায়ন ও স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। শনিবার (৪এপ্রিল) দিনভর রহিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। অথচ এ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মসজিদের মুসল্লিরা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা হওয়ায় স্কুলগামী শিশুদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয়রা। এমনকি কারো মৃত্যু হলে মরদেহ বহনেও অবর্ণনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এলাকাবাসীকে। গ্রামের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসেন স্থানীয় প্রবাসী আম্বর আলী। তার অর্থায়নে প্রয়োজনীয় ইট ও বালি কেনা হয়।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে জগন্নাথপুর এলাকার সাধারণ মানুষ কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামতে অংশ নেন। সংস্কার কাজের তদারকিতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার মুরব্বী মো.তাজ মিয়া, বারিক মিয়া, আসকর মিয়া, ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খুসবা বেগমসহ আরও অনেকে। রহিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, জনসাধারণের নিজস্ব উদ্যোগে এই সংস্কার কাজ অবশ্যই প্রশংসনীয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। সড়কটি যেন দ্রুত স্থায়ীভাবে পাকা করা যায়, সে বিষয়েও আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি।