কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ এএম

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পরীক্ষায় বারবার অকৃতকার্য হওয়ার হতাশা থেকেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্পিতা নওশিন (শারমিন)। তিনি কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট ছিলেন।

সহপাঠীদের ভাষ্য, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও অর্পিতা অ্যানাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার ওই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও তিনি পাস করতে পারেননি। একই ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে উঠলেও তিনি প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

সহপাঠীরা জানান, এ নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন অর্পিতা। ঘটনার দিন তিনি বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ (এভেন্ডার ৪০ মিলিগ্রাম) সেবন করেন।

অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান অভিযোগ করেন, তার বোনকে শুরু থেকেই অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষক মানসিকভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন। বোন অন্য সব বিষয়ে পাস করলেও একটি বিষয়ে বারবার ফেল দেখানো হয়েছে। সমস্যা কোথায়, সেটাও পরিষ্কার করা হয়নি। এই মানসিক চাপই তাকে শেষ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার আগের দিনও বোনের সঙ্গে তার কথা হয়। পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য অর্থের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন অর্পিতা।

এ বিষয়ে কথা বলতে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন ও অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে এশাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত চলছে।

কুড়িগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে অভিমানে আজিমুল ইসলাম (২৪) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আজিমুল ইসলাম উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামের অটোচালক ফজলুল হকের ছেলে এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আজিমুল ইসলাম বাড়িতে এসে বাবার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। কিন্তু তার অটোচালক বাবা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে অভিমান করে নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

এ সময় তার মা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত রশি কেটে ছেলেকে উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

আজিমুল ইসলামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকাবাসী শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। বিকেল ৩টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এভাবে চলে যাওয়া কেউই মেনে নিতে পারছি না। আর্থিক সংকটের কারণে তার চাহিদা পূরণ না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ হাসান নাঈম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত