নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষা গ্রহণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এবারই প্রথম প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নেওয়াসহ কেন্দ্রগুলো আগে থেকেই পরিদর্শন করতে ১২টি টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের সদস্যরা ৭ এপ্রিলের মধ্যে পরিদর্শন সমাপ্ত করে প্রতিবেদন প্রদান করবেন। আর পরীক্ষা কেন্দ্রে বিভিন্ন অনিয়ম, শিক্ষার্থী কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পূর্বের ১৯টি কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হয়েছে নতুন ১৯টি কেন্দ্র। আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। যশোর বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ২৯৯টি কেন্দ্রে এবার ২ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, এবারই প্রথম প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি রুমে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে যশোর শিক্ষা বোর্ড এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এরই মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্র সচিবকে চিঠি দিয়েছে। কেন্দ্র সচিবরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে সিসি টিভি স্থাপন করবেন।’
এদিকে শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বোর্ডের নতুন ও পুরনো মিলে ২৯৯টি কেন্দ্রে নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা নিতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো আগেই পরিদর্শন করা হবে। এজন্য শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১২টি পরির্দশন টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কেন্দ্র সচিব ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় করে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বোর্ডে প্রতিবেদন জমা দেবে।
অন্যদিকে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় বোর্ডের পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৯টি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট-৩৩২ (ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ), সাতক্ষীরার তালা-৫২৫ (সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়), খুলনার রূপসা-৫৪০ (রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়), খুলনা-২২১ (বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর), খুলনা-৪১২ (রোটারী স্কুল), খুলনার পল্লীমঙ্গল-৪২৮ (পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়), খালিশপুর-৪৬৬ (খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়), পাবলা ৪৬৭ (আফিলউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়), আরআরএফ-৪৬৯ (আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়), খুলনা ৪৯৩ (বিকে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন), খানাবাড়ী-৪৯৬ (খানাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়), ইসলামাবাদ-৫১৫ (ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল), যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্দিপাশা-৪৩৩ (সিদ্দিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়), মণিরামপুর-৫২৪ (পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সুগিরগোফা-৪৭২ (সুগিরগোফা মাধ্যমিক বিদ্যালয়), সাহেবনগর-৪৮৫ (সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর-৫০২ (রোস্তম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়), চাপরাইল-৫০৬ (চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়) এবং চুয়াডাঙ্গার হাসাদহ-৪০২ (হাসাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়)।
বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, ‘কেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। এজন্য বাতিল করে নিকটবর্তী ১৯টি নতুন কেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
