কেরানীগঞ্জে গ্যাস লাইট (কেমিক্যাল) কারখানায় আগুনে প্রাণহানির ঘটনায় আবারও আলোচনায় অবৈধভাবে চলা বিভিন্ন কারখানা এবং কেমিক্যাল সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা বিষয়টি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনা না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাসলাইট কারখানাটি চলছিল। এর আগেও গত বছর কারখানাটিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। সে সময় প্রাথমিকভাবে সিলগালা করা হলেও, পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে আবারও খুলে দেওয়া হয় কারখানাটি। কেরানীগঞ্জের আনাচে-কানাচে এমন কারখানার সংখ্যা অসংখ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন আগানগর, জিনজিরা, শুভাঢ্যা, কালিন্দী ইউনিয়নের অবস্থিত এসব অবৈধ কারখানায় যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
কেরানীগঞ্জে প্রতি বছরই একাধিকবার আগুনে বহু ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো কারখানা মালিকের বড় ধরনের শাস্তি নিশ্চিত হয়নি। প্রতিবারই দুর্ঘটনার পরে দুর্ঘটনার স্থান কিছুদিন বন্ধ রেখে আবারও রহস্যজনকভাবে খুলে দেওয়া হয়।
সরেজমিন কেরানীগঞ্জের আগানগর, জিনজিরা, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়ন ঘুরে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৯ সালে পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টায় একটি কেমিক্যালের গোডাউনে বিস্ফোরণে ৭১ জন নিহত হওয়ার পর চকবাজার ও আশপাশের অবৈধ গোডাউন ও কারখানার বেশির ভাগই কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হয়। চুড়িহাট্টার দুর্ঘটনার কয়েক মাস পরেই কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি কেমিক্যাল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ১৬ জনের বেশি মানুষ মারা যায় এবং গুরুতর আহত হন ২০-২২ জন শ্রমিক। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর প্রশাসন কয়েকদিন তোড়জোড় দেখালেও পরে আর কিছুই হয়নি। তাদের দাবিÑ শুধু ওই দুর্ঘটনা নয়, কেরানীগঞ্জে গত কয়েক বছরে যতগুলো অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে এ পর্যন্ত তার কোনোটিরই সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি।
