অটোপাসের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অবরুদ্ধ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ১০ জন এবং কর্মচারীদের হামলায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অটোপাসের দাবিতে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি এবং বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে ১০ পার্সেন্ট গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থী উক্তীর্ণ হন। এরপরও যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি তারা অটোপাসের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা খাতা না দেখে অটোপাস দাবি করে আসছিলেন।

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকে আধা ঘণ্টা ভিসির গাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। কিছু শিক্ষার্থী ভিসির গাড়ির নিচে শুয়ে পড়েন। কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের ভিসির গাড়ির সামনে থেকে সরাতে গেলে শিক্ষার্থীরা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রেজাউর রহমান মিয়া, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দপ্তরের পরিচালক মো. কামাল হাসান, আনসার সদস্য হুমায়ূন কবির, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী নূর মোহাম্মদ, শাহ পরাণ, জুয়েল, হোসনা বেগম, কনক রায়সহ আরো কয়েকজন।

অপরদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভাবনা রহমান জানান, সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে আমাদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কেউ কথা বলেনি। ভিসি তার কার্যালয় থেকে বের হলে তার গাড়ির কাছে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। নারী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেওয়া হয়। শারীরিকভাবে অনেক নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্চিত করে নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মকর্তারা। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সেশনজট ভুক্তভোগী ডিগ্রি ৩য় বর্ষ-২০২৩ শিক্ষার্থীদের পূর্ণ মূল্যায়ন আবেদনকৃতদের বিশেষ বিবেচনায় এবং ১ সাবজেক্ট পাস নিশ্চিতকরণসহ চার দফা দাবিতে আমরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করে এসেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ৩য় বর্ষের পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত পরীক্ষার ফলাফল গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পরও বহু নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী সামান্য নম্বরের ব্যবধানে অকৃতকার্য হিসেবে রয়ে গেছে। এতে আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাদের দাবি ফলাফল সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্যায়িত হয়নি।

শিক্ষার্থীরা প্রকাশিত ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন করা শিক্ষার্থীদের গ্রেস মার্ক প্রদানের মাধ্যমে পাশ নিশ্চিত করতে হবে। এক বিষয়ে ফল আটকে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে বিবেচনায় রেখে পাস নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার উত্তরপত্র শিক্ষার্থীদের দেখার সুযোগ প্রদান করতে হবে এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ প্রদান করতে হবে।

এদিকে এর আগে গত বছর ২১ মে অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় প্রথমবারের মতো আহত হয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। ঘটনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি এবং অন্যায় আবদারের সাথে কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাসকে সমর্থন করে না।

এ ছাড়া অটোপাসের দাবি নাকচ করে অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাস এবং গ্রেস নিরুৎসাহিত করছে। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একবার অটোপাস দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

এ ব্যাপারে গাছা থানার ওসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিসি’র গাড়িসহ কর্মকর্তাদের নিরাপদে বের করে এনে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আর শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত