মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাইক্রোবাসে তুলে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস এবং নগদ ৩,২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাত তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা থেকে প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে পুলিশ।
আটককৃতের নাম আক্তার হোসেন ওরফে জমির প্রধান (৪৬)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাসননগর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত জারিকারক আলিনুর গত ১৬ মার্চ বিকেলে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীপথে মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে গজারিয়া উপজেলায় যান। সন্ধ্যা সাতটার দিকে গজারিয়া ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে কুমিল্লা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৭০ টাকা ভাড়ায় একটি মাইক্রোবাসে ওঠেন তিনি। মাইক্রোবাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য অবস্থান করছিল,ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে মাইক্রোবাসটি কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে বেতন ও বোনাসের নগদ ৪২,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গজারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ফিরোজ বলেন, ঘটনার পর থেকেই ছিনতাইকারী চক্রটিকে ধরতে আমরা অভিযানে নামি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চক্রের মূলহোতা আক্তার হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ৩,২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
সোমবার আসামিকে আদালতে তোলা হলে তিনি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন জানান, আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তা রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
