আরেক দফা পাল্টে গেল ঈদের সিনেমার হিসাব-নিকাশ। এবার ঈদে মুক্তি পাওয়া পাঁচ সিনেমার মধ্যে ব্যবসায়িক ও প্রশংসার দিক থেকে এগিয়ে এখন সাহিত্যনির্ভর ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। তৃতীয় সপ্তাহে এসে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে তানিম নূর পরিচালিত এই সিনেমাটি। তবে ধীরে ধীরে পেছন থেকে উপরের দিকে উঠে এসে চমক দেখাচ্ছে রোমান্টিক অ্যাকশন থ্রিলার গল্পের সিনেমা ‘রাক্ষস’। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর বড় পর্দায় সিয়ামের নতুন রূপে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শক। ঈদের দিন মাত্র ১৪টি শো নিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রদর্শন শুরু হয়েছিল। তবে দর্শক চাহিদায় তা বেড়ে ২০-এর অধিক হয়েছিল দুদিন পরই। মেহেদি হাসান হৃদয় পরিচালিত সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার নায়িকা টলিউডের সুস্মিতা চ্যাটার্জি। প্রযোজনা করেছেন আজিম হারুন ও শাহরীন আক্তার সুমি। চলতি সপ্তাহের প্রথম কয়েক দিন স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় গড়ে ১০টির করে শো চলছে রাক্ষসের। অন্যদিকে লায়ন সিনেমা হলে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাক্ষসের প্রতিদিন চারটি করে শো চলবে, আর যমুনা ব্লকবাস্টারে চলছে তিনটি শো। রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলছে তিনটি করে শো এবং গ্র্যান্ড সিলেট মুভি থিয়েটার সিনেপ্লেক্সে প্রতিদিন চলবে তিনটি করে শো। সব মিলিয়ে দেশের মাল্টিপ্লেক্সে রাক্ষসের শো হচ্ছে ২৫টি।
এদিকে গত সোমবার থেকে রাক্ষস প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের বাইরে ইতালিতে। রাক্ষসের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশন জানিয়েছে, প্রথমদিনেই দর্শকের ভালো সাড়া পেয়েছে তারা। বিদেশে মুক্তি নিয়ে সিনেমাটির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় বলেন, ‘মাল্টিপ্লেক্সের দেশের সিঙ্গেল স্ক্রিনেও দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন দর্শকরা। হল মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভালো সাড়া পাওয়ার খবর পাচ্ছি আমরা। রাক্ষস এবার ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে। এরই মধ্যে মুক্তি পেল ইতালিতে। প্রথম দিনে রোমে চলার পর সেখানেও দর্শক সাড়ায় রাক্ষস টিম মুগ্ধ। আমার বিশ্বাস বিদেশেও সিনেমাটি দারুণ সাড়া পাবে।’
এদিকে রাক্ষস মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও। দেশ দুটিতে সিনেমাটি পরিবেশনা করছে গ্যালাক্সি মিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বদরুদ্দোজা সাগর বলেন, আমরা রাক্ষস সিনেমা যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় পরিবেশন করছি। আগামী ১৭ এপ্রিল মুক্তি পাবে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে একযুগে সবকটি স্টেটে মুক্তি পাচ্ছে না। আমরা পর্যায়ক্রমে সবগুলো স্টেটে মুক্তি দিতে পারব বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময়ই ভিন্নধর্মী ও শক্তিশালী গল্পের বাংলা সিনেমা বিশ্বদর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। রাক্ষস এমন একটি চলচ্চিত্র, যা দর্শকদের শুধু বিনোদনই দেবে না, বরং গভীরভাবে নাড়িয়ে দেবে। উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে এটি একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলে
আমার বিশ্বাস। এ ছাড়াও দেশের বাইরে আরও বেশ কয়েকটি দেশে রাক্ষস মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা।
সিনেমাটির গল্প নিয়ে নির্মাতা জানান, ‘রাক্ষস’ শুধু একটি অ্যাকশনধর্মী সিনেমা নয়; এটি মানুষের অন্তর্গত অন্ধকার দিক এবং প্রতিশোধের গল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। দর্শকদের জন্য রয়েছে চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল, তীব্র নাটকীয়তা এবং ভিন্নধর্মী সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা। এক কথায় পয়সা উসুল সিনেমা এটি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাই সিনেমাটি দেখে দেশের দর্শকদের মতোই দেখে আনন্দ পাবেন।
সিনেমাটির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও ভারতের মুম্বাইয়ে। এটি পরিচালকের দ্বিতীয় সিনেমা। প্রথম সিনেমা ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে দারুণ আলোচনায় আসেন তিনি। এবার ‘রাক্ষস’ দিয়ে সে ধারা অব্যাহত রেখেছেন।