রেক্টাল ক্যানসার নিয়ে ভুল ধারণা

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

কারও কারও মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হয়। অনেকেই এই সমস্যাকে পাইলস ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু মনে রাখবেন, এটি রেক্টাল ক্যানসারেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। লজ্জায় অথবা সামাজিক অসচেতনতার কারণে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। অনেকে কবিরাজ, হেকিমের ভুলভাল প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে অপচিকিৎসা নেন। যার কারণে রোগ নির্ণয়ে অনেক দেরি হয়ে যায়। মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

রেক্টাম হলো বৃহদান্ত্রের শেষ অংশ এবং এখানে ক্যানসার হলে তাকে রেক্টাল ক্যানসার বলা হয়। রেক্টাল ক্যানসার পুরা পৃথিবীতে ক্যানসারের মধ্যে তৃতীয়তম। বর্তমানে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে, তবে সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।

যেসব লক্ষণ দেখা যায়

মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত

মলের অভ্যাসে পরিবর্তন (ডায়রিয়া/কোষ্ঠকাঠিন্য)

মল সম্পূর্ণ না হওয়ার অনুভূতি

মলের আকার সরু হয়ে যাওয়া

অকারণে ওজন কমে যাওয়া ও দুর্বলতা

ঝুঁকিতে যারা

৫০ বছরের বেশি বয়স। তবে আমাদের দেশে এর চেয়ে কম বয়সেও আক্রান্তের হার বাড়ছে!

পরিবারে কোলন বা রেক্টাম ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে।

অন্ত্রের পলিপ বা দীর্ঘদিনের প্রদাহ দেখা দিলে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও স্থূলতা থাকলে।

লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ।

কী করবেন

লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

প্রয়োজন অনুযায়ী ঈড়ষড়হড়ংপড়ঢ় পরীক্ষা করুন। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে।

প্রতিরোধে করণীয়

আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খাওয়া।

লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খেতে হবে।

নিয়মিত ঘাম ঝরানো ব্যায়াম করা।

ধূমপান পরিহার করা।

চিকিৎসা কী

সার্জারিই প্রথম চিকিৎসা, যার মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময় সম্ভব। তবে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি দিয়েও চিকিৎসা করা যেতে পারে। রোগ কোন স্টেজে আছে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

মনে রাখুন

‘মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত মানেই পাইলস নয় সচেতন হোন, প্রয়োজনে পরীক্ষা করুন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত