মানববন্ধনে ক্যাবের দাবি

দেশে ভোজ্যতেলের নৈরাজ্য চলছে

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ এএম

দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে বলে দাবি করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাবের মতে, বাজারে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন।

ক্যাবের তথ্যমতে, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৭০ টাকা হলেও বাজারে তা ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ১৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের খোলা সয়াবিন তেল এবং ১৬২ টাকার পাম তেলও বাজারে অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এই পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন ও বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকার অভাবকে দায়ী করেছেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের দুর্বল মনিটরিংয়ের সুযোগে বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের কিছু রিফাইনারির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম কমে গেছে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৯৫ টাকা হলেও বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব অনিয়ম বাজারে তদারকির ঘাটতির প্রমাণ।

বাজারের এই অস্থিরতা কাটাতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ক্যাবের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত