রাজধানীর বড় ও যানজটপ্রবণ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক অফলাইন-অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম, তারা স্বেচ্ছায় ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ বা সমন্বিত এই শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতিতে অনুসরণ করবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে এ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি সবার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সক্ষমতা রাখে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমরা এই ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি। এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘নতুন ব্যবস্থার আওতায় সপ্তাহে ছয় দিনের শিক্ষা কার্যক্রমে শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি (অফলাইন) ক্লাস করবে। রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস হবে। শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হলেও শিক্ষকদের স্কুলে উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে।
সভায় রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা উপস্থিত থেকে ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে (অফ লাইন ও অন লাইন) ক্লাস নেওয়ার পক্ষে তাদের মতামত প্রদান করেন। তারা সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এটি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তারা বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রিপোর্টিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়, যা অফলাইন ক্লাসে ফলো-আপের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।
