বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা শিক্ষার্থীকে উদ্ধার, পরিবারের দাবি 'ধর্ষণ'

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে মুখে টেপ জড়িয়ে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তালাবদ্ধ স্কুলের কক্ষ থেকে উদ্ধার করেছে পরিবার। আহতাবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সংবাদ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানান মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম।

ছাত্রীর দাদি জানান, মেয়েটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুলে যায়। দুপুরে সব বাচ্চারা স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে আসে, কিন্তু আমার নাতনি না আসায় আমি আশপাশে অন্যান্য বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করি। সব বাচ্চারা বলে তারা একসঙ্গে স্কুল থেকে বেড়িয়েছে। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে না পেয়ে সহপাঠীরা বিকেলের দিকে স্কুলে যায় খোঁজ করতে। স্কুলের দপ্তরি হমিদুলকে তালা খুলে দেওয়া কথা বললে তিনি অস্বীকার জানান। পরে রাত ৮টার দিকে পরিবারের সবাই স্কুলে গিয়ে হামিদুলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে দেখতে পাই নিচ তালায় স্যান্ডেল, দোতলায় স্কুল ব্যাগ এবং তিন তলার একটি কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা, মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় আমার নাতনি পড়ে আছে। 

এ বিষয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল। এদিন স্কুলে কোনও পাঠদান কার্যক্রম ছিল না। সে কারণে অনুষ্ঠান শেষে সকল শিক্ষার্থী বাড়ি চলে যায়। পরে শুনি স্কুলের তালা খুলে এক ছাত্রীকে হাতা-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খুবই হৃদয়বিদারক।

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম জানান, রাত ১টায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেফার্ড হয়ে আসে শিশুটি। হাসপাতালের যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী আমরা গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করি এবং ভিকটিম ও তার পরিবারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি। কিন্তু পরিবার বা ভিকটিম কেউ কোনও তথ্যই দিচ্ছিলেন না। পরে শুক্রবার সকালে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। কর্তব্যরত গাইনি চিকিৎসক প্রথমিকভাবে ধর্ষণ হওয়ার আলামত পেয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আমি নিজেও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। বাচ্চার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতজনিত ক্ষত রয়েছে। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে বাচ্চা এবং তার পরিবার কিছুই বলছে না। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলেও জানান ওসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত