কুমিল্লার তিতাসের নারান্দিয়া এলাকায় গোমতী নদী পাড় ভাঙন রোধে জিওব্যাগ তৈরি ও ফেলানোর কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, জিও ব্যাগ তৈরিতে বালুর সঙ্গে সিমেন্ট না দিয়েই কাজ করেছে। আবার ১৫ হাজার ব্যাগের স্থলে ৫ হাজার ৭০০ ব্যাগ ফেলেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে গোমতী নদীর নারান্দিয়া অংশে প্রতি বছর বর্ষার শুরু ও শেষের দিকে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রতিবছর দুই পাড়ের অন্তত কয়েক শতাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনে অনেকেই বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিতাস উপজেলার দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামে ২০০ মিটার এলাকা ভাঙন রোধে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি প্রকল্প হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে। ওই কাজের দায়িত্ব দেয় কুমিল্লার জনৈক ঠিকাদারকে। প্রকল্প অনুযায়ী ১৫ হাজার জিও ব্যাগ ভাঙনস্থানে বসানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ৭০০ ব্যাগ বসানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ ভূঁইয়া, আবুল বাসার ও মুর্শিদ মুন্সি বলেন, যেসব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে সেগুলোতে সিমেন্ট দেয়নি। এখন বর্ষা শুরু হলে আমাদের ঘর বাড়ি মনে হয় আর রক্ষা করতে পারব না। ঠিকাদার কে আমরা জানি না? তবে আমাদের নারান্দিয়া গ্রামের সাবেক মেম্বার মফিজ উদ্দিনকে কাজটি দেখাশোনা করতে দেখেছি।
আরেক ভুক্তভোগী দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামের কাউসার আহম্মেদ বলেন, শুধু বালু ভর্তি ৫ হাজার ৭০০ জিও ব্যাগ ফালাইছে। নদীর পাশে কোনো রকমের প্রোটেকশ খুঁটি বা বেড়া দেওয়া হয়নি। আমি কুমিল্লা ফোন দিয়ে জেনেছি, ১৫ হাজার ব্যাগ ফালানোর কথা। এখন বর্ষা শুরু হলেতো কাজটি ঠিকমতো করা যাবে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতির কারণে মনে হয় আমাদের বাড়ি ঘর এ বছর ভাঙনের কবল থেকে আর রক্ষা করতে পারবো না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মফিজ উদ্দিন মেম্বার বলেন, আমি কোনো সাব ঠিকাদার নই। ঠিকাদারকে শ্রমিক ও বালু সাপ্লাই দিয়েছি মাত্র।
কাজটির দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি রেগে যান। এরপর তিনি বলেন, কে বলেছে ৫ হাজার ব্যাগ ফেলেছি, কাজতো এখনো শেষ হয়নি। আমরা প্রথমে কাজ করে দেখি যে কাজটি টিকবে কিনা? আমাদের ইভালুয়েশন ( মুল্যায়ন) কমিটি আসার কথা, এজন্য একটু দেরি হচ্ছে। কমিটির লোকজন দেখার পরে আমরা নতুন করে আবার কাজটি শুরু করবো।
তিনি বলেন, লোকজন মনে করছে আর মনে হয় কাজ হবে না। কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া ফোন করেছিল, উনার সঙ্গে কথা হয়েছে, যত বস্তা লাগে কাজটি করে দেব।
সিমেন্ট দেয়া হয়েছে কিনা বা কম দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এবিষয়ে পরে কথা বলবো, আগে কাজটি শুরু করি।
