লিপুর দলটাই রেখে দিলেন হাবিবুল

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

মার্চ থেকে এপ্রিলক্যালেন্ডারের পাতা বদলাতে বদলাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে বদলে গেছে অনেক কিছুই। সভাপতি বদলেছে, প্রধান নির্বাচক বদলেছে এবং ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধানও বদলেছে। এত বদলের মাঝেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলটাকেই অপরিবর্তিত রেখে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। অর্থাৎ গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর ঘোষণা করে যাওয়া সবশেষ দলটাই হয়ে থাকল প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুলের প্রথম।

মার্চের ১৫ তারিখে শেষ হওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে সিরিজের পর বাংলাদেশ ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক, কোনো রকম কোনো ক্রিকেটই খেলেনি। তার ২-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজের দল থেকে কাউকে বাদ দিয়ে এর বাইরের কাউকে সুযোগ দেওয়ার প্রেক্ষাপটও তৈরি হয়নি। সত্যি কথাটা হচ্ছেএই ১৫ জনের বাইরে এমন কেউ নেই, যাদের দলে জায়গা না দিলে হবে অবিচার। তবু আইপিএল ও পিএসএলের কারণে তারকা খেলোয়াড়দের বাইরে রেখে নিউজিল্যান্ড যেমন তরুণ উঠতি ক্রিকেটারদের নিয়ে আসছে বাংলাদেশে, বিসিবিও চাইলে পিএসএলে খেলা মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেনদের দেশে ফিরিয়ে না এনে অন্যদের সুযোগ দিতে পারত কি নাএমন প্রশ্নে হাবিবুল জানিয়েছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনো বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে ম্যাচ জেতা। জেতার জন্যই আমরা সেরা দলটি সাজাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা স্যাক্রিফাইস করে নয়।’ যদিও ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ আসতে এখনো প্রায় বছর দেড়েক বাকি, টুর্নামেন্টটা হবে পরের বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে, আর সেই আসরে সরাসরি খেলতে গেলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশকে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে বর্তমান অবস্থানটা ধরে রাখতে হবে, এর চেয়ে উপরে উঠলে ভালো, তবে নিচে নামা যাবে না। অতীত অভিজ্ঞতা বলে বাংলাদেশের ক্রিকেট বাস্তবতায় আসলে এত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা খুব একটা কাজে দেয় না, তবু আশাবাদী হতে ক্ষতি কি!

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে দুইয়ে আছে নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ ৯ নম্বরে। যদি নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে বাংলাদেশের বাড়বে ৬ রেটিং পয়েন্ট, ৭৯ থেকে হবে ৮৫। নিউজিল্যান্ডের কমবে ৫ পয়েন্ট, ১১৪ থেকে কমে হবে ১০৯। তাতে করে র‌্যাংকিং টেবিলে দুই দলের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন না হলেও বাংলাদেশ ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে পারবে আটে থাকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে। তখন দুই দলের ব্যবধান হবে মাত্র ৩ রেটিং পয়েন্টের। ইংল্যান্ডের অবশ্য জুলাইয়ের আগে কোনো ওয়ানডে ম্যাচ নেই।

হাবিবুল তার পূর্বসূরির গড়ে যাওয়া শেষ জাতীয় দলে শুরুতেই কোনো কাঁচি চালাতে না চাওয়াতে কপাল খুলেছে সাইফ হাসান ও আফিফ হোসেনের। ইনিংসের সূচনায় সাইফ তিন ম্যাচে করেছেন যথাক্রমে ৪,১২ ও ৩৬ রান; তার পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও নির্বাচকরা তাকে আরও একটু সুযোগ দিয়ে দেখার পক্ষে। আফিফ হোসেনও প্রায় বছর দেড়েক পর ওয়ানডে দলে ফিরে তিন ম্যাচের দুই ইনিংসে করেছেন ১৪ ও ৫* রান। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘পর্যাপ্ত সুযোগ’ দেওয়ার বিবেচনায় দুজনেই থেকে গেছেন ওয়ানডে দলে। হাবিবুল জানিয়েছেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, তখন মনে হয়েছেগত সিরিজটায় আমরা সফল হয়েছিলাম। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু ক্রিকেটার হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু ক্রিকেটার নতুন এসেছে। আমাদের পলিসি হচ্ছে, যখন কেউ আসবে তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে, তারা খারাপ খেলেনি। আমরা ধারাবাহিকতায় বিশ্বাস করতে চাই, যার জন্য আমরা এ সিরিজে দলে বদল আনিনি।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান যেন এক‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ অধ্যায়’। ২০২৪ সালে কানপুরে সাকিব অবসর নিয়েছেন টেস্ট থেকে, চোখের সামনে সেই শেষ দৃশ্যের অবতারণা দেখার পর সাকিবকে পডকাস্টে এসে বলতে শোনা গেছে যে, তিনি অবসর নেননি! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সমালোচনা আড়াল করতেই সাকিবকে আবার জাতীয় দলে নিয়ে আসার যে ধূম্রজাল, তার ভেতর হারিয়ে গেছে সত্যিটা। হাবিবুল, যার অধিনায়ক থাকার সময়েই সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক, তিনি ব্যক্তিগত যোগাযোগে যা জেনেছেন, সেটাই জানালেনআমার সঙ্গে দু-একবার কথা হয়েছে (সাকিবের সঙ্গে)। আমার মূল প্রশ্ন ছিলসে প্রস্তুত কি না। যেহেতু ও যেখানে আছে, ওখানে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। ট্রেনিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফিটনেস ট্রেনিং করা যায়, কিন্তু ক্রিকেট খেলা অত রেগুলার হয় না। আমি আসলে ওর সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বেশি কথা বলেছি। বাকিটা ওকে এখানে পাওয়ার ব্যাপার। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা অবশ্যই তাকে লম্বা সময়ের জন্যই চাই।’ ৩৯তম জন্মদিন পালন করে ফেলা সাকিবকে আরও কতটা লম্বা সময়ের জন্য পাওয়া যাবে অথবা আদৌ সাকিব ফিরবেন কি নাএসব নির্ভর করবে সরকার এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, খুব শিগগিরই ফেরার কোনো রাস্তা নেই।

প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত