দীর্ঘ আট মাসেও জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আলোচিত রিপন হত্যা মামলার চার্জশিট না দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চার্জশিট না দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম হিমন মামলা আপসের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাদের দাবি, আসামিদের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বিষয়ে নিহতের বাবা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিবেশীরা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ছেলে রিপন মিয়াকে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করে। ঘটনার পর পরিবারের লোকজন থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে গ্রামপুলিশকে বাদী করে অজ্ঞাতনামা আসামি করে পুলিশ মামলা নেয়। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আমরা ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছি।’
এদিকে মামলার বাদী গ্রামপুলিশের সদস্য খোকন রবিদাস বলেন, ‘মামলায় কি লেখা আছে তা আমি জানি না। আমি শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি।’
নিহতের বাবা মোজ্জাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. তারিকুল ইসলাম হিমন আবেদন করে আদালতে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি মামলা আপসের জন্য চাপ দিচ্ছেন।’ আসামিদের থেকে টাকা নিয়ে তদন্তে গড়িমসি করছেন বলেও অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিমন আসামি ও তাদের আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি আমার আরেক ছেলে টের পেয়ে গোপনে মোবাইলে ভিডিও করে। বিষয়টি টের পেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমার ছেলের মোবাইলটি কেড়ে নেয় এবং ভিডিও মুছে ফেলে একদিন পর ফেরত দেয়।’
নিহতের বড় ভাই ফরিদ বলেন, ‘আদালতে আসামিদের দেখিয়ে দেওয়া হলে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও মামলার তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ কখনো আসামি ধরতে এলাকায় আসেনি।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম হিমন বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। নিহতের নামে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা ছিল। যে কেউ অভিযোগ করতে পারে। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমি অবগত না। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখব। হত্যা মামলার চার্জশিট আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। হয়তো এখনো প্রতিবেদন হাতে পায়নি। প্রতিবেদন হাতে পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোসা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
