যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার চলমান আলোচনার ফলাফল যা-ই হোক না কেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ এখনো সচল রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট নিরসনে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এই প্রক্রিয়া থেকে সরে যাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। শনিবার(১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এক বক্তব্যে তিনি বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না; আমরা ইতিমধ্যে জিতে গেছি।
প্রেসিডেন্টের এই মনোভাবের সঙ্গে তার কর্মকাণ্ডের মিল লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে তিনি আলোচনার ওপর সরাসরি নজর না রেখে মায়ামিতে একটি ইউএফসি ম্যাচ উপভোগ করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্ভবত এই পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনক প্রস্থান খুঁজছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হোক বা না হোক, ‘যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জয়ী হয়েছে’—এমন ঘোষণা দিয়ে তিনি এই অধ্যায়টি শেষ করতে চাইছেন।
হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে গত ১০ দিনের ব্যবধানে ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি অবস্থান নিয়েছেন। প্রথমে তিনি বলেছিলেন, এই প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই কারণ সেখান দিয়ে আসা তেলের ওপর তারা নির্ভরশীল নয়। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরান ও এই অঞ্চলের সংঘাত নিরসন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব অন্যান্য দেশগুলোর। অথচ মাত্র কয়েক দিন পরেই তিনি সুর বদলে বলেন যে, হরমুজ প্রণালী এখন মার্কিন চাহিদার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তার এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের ফলে দেশটির প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকা এখন পর্যন্ত অনস্বীকার্য। ওমান এর আগে উভয় পক্ষকে আলাদাভাবে আলোচনায় বসাতে পারলেও, পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যারা বিবদমান দুই পক্ষকে একই ঘরে মুখোমুখি বসাতে সক্ষম হয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আলোচনার টেবিল থেকে সরে গেলেও মধ্যস্থতার এই মাধ্যমটি এখনো বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার পথটি খোলা থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানই হতে পারে এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের চাবিকাঠি।
সূত্র: আল-জাজিরা
