বাজেটে করের বোঝা বাড়বে না

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য করদাতার ওপর নতুন করে করের বোঝা বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সরকার টেকসই অর্থনীতির জন্য করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ডিসিসিআই’র ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। দৈনিক সমকালের আয়োজনে অনুষ্ঠানটি চ্যানেল-২৪ সরাসরি সম্প্রচার করে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঞ্চালনায় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসনে এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিগত সরকারের আমলে গৃহীত অযৌক্তিক কিছু উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়াতে বিশেষ করে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় হ্রাস ও সরকারি সেবা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জিডিপি’র আকার প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ হলেও দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্র্যসীমায় বসবাস করছে। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যেও করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আহরণ পদ্ধতির অটোমেশন, সহজীকরণ, করজাল সম্প্রসারণ একান্ত অপরিহার্য। এ ছাড়া তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা, সর্বোচ্চ কর হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, নন-লিস্টেড কোম্পানির কর হার লিস্টেড কোম্পানির ন্যায় ২৫ শতাংশ ধার্য করাসহ অগ্রিম ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ব্যবস্থা বিলুপ্তকরণের প্রস্তাব করেন। সেই সঙ্গে টেকসই ও স্থিতিশীল আর্থিক খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতির আধুনিকায়ন, খেলাপি ঋণ হ্রাস ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা, উৎপাদনশীল খাতে লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন ও স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতি সুদহার যৌক্তিকীকরণের ওপর জোর দেন।

দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাতগুলোতে আগামী বাজেটে নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেন তাসকীন আহমেদ।

আইসিসিবি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে বেসরকারিখাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও সত্যিকার অর্থে সেটি বাস্তবায়নে সরকারের তেমন কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ হার, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ হ্রাস এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, বর্তমানের বৈশ্বিক সংকটের কারণে স্তিমিত হওয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সচল করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে এমএসএমই খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর তিনি জোর দেন।   

অনুষ্ঠানে “আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), ‘আর্থিক খাত’, ‘শিল্প ও বাণিজ্য’ এবং ‘অবকাঠামো’ চারটি সেশনের নির্ধারিত আলোচনায় ডিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও ব্যারিস্টার মো. সামির সাত্তার, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) সভাপতি মো. কাউসার আলম, চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ, ডিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি হোসেন খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আকন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসাইন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শরীফ জহির, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার’স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সভাপতি ডেভিড হাসানাত এবং কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমরান করিম প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত