অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, পরিবারের পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ এএম

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে চিকিৎসা অবহেলায় প্রসূতি মা কনিকা মন্ডলের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল শুক্রবার সকালে বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার বাড়িতে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় তিনি তদন্তে চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে কনিকার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন মন্ত্রী। কনিকা একই গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা ভুল হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী কনিকা মন্ডল সন্তান প্রসবের জন্য ফরিদপুরে ‘সমরিতা হাসপাতাল’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গত ২৯ জুন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি বাচ্চা প্রসব করেন। অস্ত্রোপচারের পরে তার পেট ফুলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে গত ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ৭ জুলাই পরীক্ষায় তার পেটে গজের অস্তিত্ব পেয়ে সেদিনই অপারেশন করে তা বের করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত বুধবার রাতে তিনি ঢাকার কল্যাণপুরের ওই হাসপাতালে মারা যান।

তদন্ত কমিটি গঠন : অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাইয়ের ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান গত বৃহস্পতিবার রাতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন খানকে। সদস্য সচিব ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা বেগম এবং কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সঞ্জীপন গাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা জ্যোতিময় জ্যোতি ও নুপুর পাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত