সেমিনারে ডা. শফিক

আন্দোলন সফল করেই ঘরে ফিরবে বিরোধী দল

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩১ এএম

জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সারা দেশে এখন আন্দোলন চলছে। এখন তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।’ এ সময় তিনি ঘোষণা দেন রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে। এই আন্দোলনে দেশবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানান।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে এক সেমিনারে শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, চিফ হুইপ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রোডাক্ট। ‘জুলাই আছে আমরা আছি, জুলাই আছে সরকার আছে, জুলাই আছে বিরোধী দল আছে, জুলাই নাই কিছুই নাই। এই জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সরকার পার পাবে না। গণভোটের গণরায়ের মাধ্যমেই জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন হবে।’ বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্লামেন্টে যাদের নাড়াচাড়া দেখেন, প্রশ্ন আসে কে দড়ি টানে? সেই দড়িটা কোথা থেকে টান দেওয়া হয় জাতি বুঝে। ওই ঘুড়ির নাটাইটা কোথায়। ওখান থেকেই এটা নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। এ জন্যই অস্থিরতা। এক সময় গণভোট হারাম, আরেক সময় না, এটা অর্ধেক হালাল। একসময় একই অর্ডারের মাংস হালাল, কিন্তু ঝোলটা তার হারাম।’

সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারি দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো। এখন সংসদে তাদের কয়েকজন বর্তমান বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে একই রকম কথা বলা শুরু করেছে। তাদের জিহ্বা সংযত করতে হবে। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানিতে ভয় পায় না। অতীতে যারা এমন আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখা যাচ্ছে। অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরও ভয়ংকর হবে।

ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, যে ব্যাংক দেশের ‘রেমিট্যান্সের ৩২ ভাগ একা আহরণ করে’ এই ব্যাংকের অস্তিত্ব বিপণœ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে। তিনি বলেন, ‘সাবধান করে দিচ্ছি, এইটাকে দলীয়করণ করবেন না। যদি দলীয়করণ করেন ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না। এ দেশের ব্যাংকের মূল মালিক জনগণ। জনগণকে বলব জেগে উঠুন, আওয়াজ তুলুন, ওদের কদর্য চেহারা জাতির সামনে উন্মুক্ত করে দিন। থামিয়ে দিন, থামিয়ে দিতেই হবে।’

সেমিনারে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায়কে এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। বিএনপি এখন জুলাই সনদ বনাম জুলাই আদেশ নিয়ে কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে। তারা বলছে, জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে, তবে জুলাই আদেশ অবৈধ। এই জুলাই আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট হয়েছিল।

জুলাই সনদ কোন পথে বাস্তবায়ন সম্ভব সেই আলোচনা ঐকমত্য কমিশনেই হয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যারা সে সময় ঐকমত্য কমিশনে ছিলেন, তারা সবাই কথার বরখেলাপ করেছেন। গণভোটের গণরায়কে তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর সেই ভূতে বিএনপি সরকারের ওপর চেপে বসেছে। ভূতটা হলো জনগণকে অপমান করার ভূত। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলকে সংক্ষেপে বললে সেটা ছিল জনগণকে উপহাস ও যেখানে-সেখানে অপমান করা।’

এখন সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা জাতিকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একজন সংসদে বলেছেন, মানুষ না বুঝে গণভোটে ভোট দিয়েছে। তিনি মাস্টার সেজে সংসদ সদস্য ও জনগণকে সংবিধান শেখাতে চান। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত। ক্ষমতার মসনদে বসলে জনগণকে ক্ষুদ্র মনে হয়। বিএনপিকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা ক্ষমতা পেয়ে জনগণকে ইঁদুর আর নিজেদের সিংহ মনে করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত