ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন

বৈশাখের গানে এবার এআই’র নতুন সুর

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে পহেলা বৈশাখ। বৈশাখী আয়োজনে গান ছাড়া যেন উৎসবের পূর্ণতা আসে না। তবে এবারের নববর্ষের উৎসবে যুক্ত হয়েছে এক অভাবনীয় চমক। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় প্রথমবারের মতো বাংলা গানের সুরে কণ্ঠ মেলাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ঐতিহ্যবাহী লোকজ বাদ্যযন্ত্রের চিরচেনা শব্দের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন সংগীত জগতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

সাধারণত বৈশাখের গান মানেই আমরা বুঝি ঢোল, খোল আর মাটির সুরের মূর্ছনা। কিন্তু এবার সেই চেনা ছক ভেঙে আইটি ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মিউজিকফ্লাক্স স্টুডিও নিয়ে এসেছে এক বিশেষ সৃষ্টি। একদল তরুণ প্রযুক্তিবিদের হাত ধরে তৈরি এই গানটিতে মানুষের সৃজনশীলতার পাশাপাশি সুর ও কণ্ঠের মূল কাজটি সম্পন্ন করেছে এআই অ্যালগরিদম। গানটির কথা ও ভাবনার নেপথ্যে মানুষ থাকলেও এর সংগীত পরিচালনা ও গায়কিতে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

গানটি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্মাতা দলের সদস্য শাহ ইমরাউল কায়ীশ জানান, এআই-কে প্রথমে বাংলার লোকসংগীত এবং বৈশাখের কালজয়ী গানগুলোর ওপর গভীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট প্রম্পট ও নির্দেশনার মাধ্যমে তৈরি করা হয় এমন একটি কণ্ঠস্বর, যা একই সাথে আধুনিক এবং মাটির কাছাকাছি। প্রযুক্তিবিদদের দাবি, গানটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হলেও এর মূল আবেগে কোনো কমতি রাখা হয়নি। পহেলা বৈশাখের মতো একটি বড় উৎসবে এআই প্রযুক্তির এই প্রয়োগ সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির এক দারুণ সেতুবন্ধন।

ডিজিটাল নববর্ষের এই বিশেষ গানটি ইতোমধ্যে মিউজিকফ্লাক্সের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে। গানটি প্রকাশের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিচ্ছে। বাঙালির প্রাণের উৎসবে নতুন প্রযুক্তির এই সুরের ছোঁয়া কতটা জনপ্রিয় হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মূলত প্রযুক্তির এই নতুন পদচারণা আগামীর সংগীত শিল্পে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত