প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে সরকারের অন্য যেসব পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে ক্যাবল কার স্থাপনের মতো প্রকল্পের চেয়ে নদী ভাঙন থেকে মানুষকে বাঁচানোকে বর্তমানে অধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জনগণের মাঝে যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার অংশ হিসেবে কৃষকদের জন্য পাইলট প্রজেক্টের কাজ গতকাল মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকেই শুরু হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কাজগুলো পর্যায়ক্রমিকভাবে শুরু হয়েছে এবং এর বিস্তারিত তথ্য তিনি সংসদীয় কার্যবিবরণীতে পঠিত বলে গণ্য করার অনুরোধ জানান।
শ্রমিক শ্রেণির অবদান ও তাদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের সময় যে ইশতেহার দিয়েছিল, তাতে শ্রমিক, কৃষক ও দিনমজুরসহ প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষকদের সহযোগিতার জন্য 'কৃষক কার্ড' এবং প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুধু কৃষকদের নয়, বরং গ্রাম ও শহরের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকেও উপকৃত করবে। এছাড়া আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার মাধ্যমেও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ লাভবান হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়ার কাজও সরকার শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খেলোয়াড়রা মূলত খেটে খাওয়া সাধারণ পরিবারের সদস্য, তারা যাতে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিশ্রুতি এই দেশের মানুষের প্রতি এবং দেশের প্রতি। শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেমন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তেমনি শ্রমিক বা ওয়ার্কিং ক্লাসের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
