প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে এক অনুষ্ঠানে পহেলা বৈশাখে ১০০ কৃষকের মধ্যে ১৫ জনের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দিলেন। পাশাপাশি তিনি উপহার দিলেন ১৫টি ফলদ গাছের চারা। বললেন, আপনারা এই গাছ বুনেন। বড় হলে, ফল ধরলে আমাকে খেতে দেবেন। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা কৃষি কার্ড দেওয়ার সূচনা হলো। নতুন এই প্রণোদনা কৃষকদের ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে। কারণ অতীতে কোনো গণতান্ত্রিক বা অগণতান্ত্রিক সরকার কৃষকের জন্য এমন নিবিড় আয়োজন করেনি। তারেক রহমানের সরকার এই ব্যাপারে নতুনত্বই কেবল আনল না, প্রকৃত প্রস্তাবে এবারই প্রথম কৃষকরা সরাসরি সরকারপ্রধানের চিন্তা ও কর্মের মধ্যে এলেন। কৃষি যে আমাদের কেবল অর্থনৈতিক শক্তির প্রধানই নয়, আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনারও নির্মাতা। সুজলা-সুফলা উর্বরা ভূমির বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্যই হচ্ছে ধান ও চাল। আমাদের গ্রামীণ জীবনে গম কখনোই ছিল না। বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে গম আমাদের খাদ্য তালিকায় আসে। তারও অনেক পরে গম উৎপাদনের তালিকায় যুক্ত হয়।
কী কী পাবে আমাদের মেহনতি কৃষক সমাজ। যারা হাড়ভাঙা খাটুনির ভেতরে বৈরী আবহাওয়ার দাপটকে সহ্য করে ফসল উৎপাদন করে, সেই সংগ্রামী চরিত্র হচ্ছে কৃষক। তারা নিজের প্রয়োজনে, নিজেদের গ্রাসাচ্ছাদনের লক্ষ্য ফসল ফলান। আর তারই ভেতর দিয়ে দেশের সব মানুষের গ্রাসের জোগান হয়। তারই মাধ্যমে অর্থনীতির গোড়া শক্তপোক্ত হয়। আমাদের কৃষকের নিরলস শ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলেছে। কৃষি আর কৃষকই আমাদের মূল শক্তি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এটা বুঝেই কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে সামনের দিনগুলোর সোনালি স্বপ্ন দেখছেন। কৃষককে কীভাবে প্রণোদিত করতে হবে তারেক রহমান সেটা ভালো বুঝেছেন। তিনি নারীকেও ক্ষমতায়নের সিঁড়িতে নিয়ে এসেছেন। নারী ও পুরুষের যৌথ কর্ম হচ্ছে গ্রামীণ সভ্যতার নিখিল আর গ্রাম হচ্ছে সেই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। দেশের ৭০ ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করলেই কেবল আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। কৃষকের উন্নতি মানেই হলো দেশের উন্নয়ন। উৎপাদন থেকে পরিবহন ও বিপণনের মাধ্যমে তাদের ন্যায্যমূল্য ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
শুরুতে পাইলট প্রকল্পে টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় ২২ হাজার ৬৫ জন ভূমিহীন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার ৬৭১ জন প্রণোদনা পেয়েছেন। সরকার ঘোষিত সুবিধার মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগবালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা। পর্যায়ক্রমে দেশের দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, দ্রুততর সময়ের মধ্যে সরকার তার ঘোষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।