প্রাচীন রোমে প্রায় দুই হাজার বছর আগে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ছিল না। তারপরও অভিন্ন স্থাপনায় পঞ্চাশ হাজার মানুষকে জায়গা দেওয়া এবং কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই প্রায় পাঁচশ বছর কাজ চালিয়ে যাওয়া রোমানরা বিখ্যাত কলোসিয়ামের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল। সম্রাট নিরো ছিলেন রোম সাম্রাজ্যের ইস্পাত-দৃঢ় নেতাদের একজন। তিনি ছিলেন প্রচ- ক্ষমতালোভী। সিংহাসনে বসার ক্ষেত্রে তার আপন ভাই ব্রিটানিকাস বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, এই অনুমান থেকে তিনি আপন ভাইকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেন। পরবর্তী সময় মায়ের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় মাকেও হত্যা করেন। ফলে রোমের সিনেট একসময় তাকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। তিনি প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর ত্রিশ বছর বয়সে আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবনাবসান ঘটে। সম্রাট নিরোর পরিণতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন সম্রাট ভেসপাসিয়ান রোমান জনগণের সন্তুষ্টি অর্জন ও সাম্রাজ্যের হারানো খ্যাতি ফিরিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু স্থাপনা তৈরির ঘোষণা দেন। সম্রাট নিরোর তৈরি ‘গোল্ডেন প্যালেস’-এর সামনে বিশাল জায়গা জুড়ে বাগান ও নহর ছিল। সোনালি প্রাসাদের সামনে বাগানের জায়গাটিই প্রস্তাবিত ‘কলোসিয়াম’ তৈরির স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৭২ খ্রিস্টাব্দে পুর্ণোদ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। ধারণা করা হয়, পুরো স্থাপনায় প্রবেশের জন্য মোট আশিটি দরজা রাখা হয়েছিল, কিন্তু ছিয়াত্তরটি দরজা দিয়ে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারত। বাকি চারটি দরজার মধ্যে দুটি ছিল সম্রাটের জন্য সংরক্ষিত, আরেকটি দিয়ে বিজয়ী সৈন্যরা কলোসিয়াম ত্যাগ করতেন। অপরটি দিয়ে হিংস্র পশুর মৃতদেহ কিংবা পরাজিত/নিহত সৈন্যদের লাশ সরিয়ে ফেলা হতো। কলোসিয়ামে আসামিকে ভয়ংকর পশুদের সামনে ছেড়ে নির্মমতার সঙ্গে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হতো। মানুষের রুচি ও সময়ের পরিবর্তনের ফলে ৪০৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট অনারিয়াস কলোসিয়াম বাতিল ঘোষণা করেন।