চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ফুটবল বিশ্ব দেখল এক মহাকাব্যিক লড়াই। গোলবন্যা, নাটকীয় মোড় আর লাল কার্ডের ছড়াছড়িতে ঠাসা ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ ব্যবধানে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ এগ্রিগেটে জয় নিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, ১৬তম শিরোপার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিতে হলো কার্লো আনচেলত্তির উত্তরসূরি আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আগুনের তেজ। প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকা রিয়াল ম্যাচে ফিরতে সময় নেয়নি। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মাথায় বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে ২৫ গজ দূর থেকে চমৎকার শটে গোল করেন আরদা গুলের। এগ্রিগেটে তখন ২-১ সমতা।
তবে বায়ার্নও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। ৫ মিনিট পরেই জশুয়া কিমিচের কর্নার থেকে হেডে গোল করে বায়ার্নকে লিড এনে দেন আলেকসান্দার পাভলোভিচ। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন গুলের। তার দারুণ এক ফ্রি-কিক ঠেকাতে গিয়েও ব্যর্থ হন নয়্যার, ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিয়াল (এগ্রিগেটে ৩-৩)। উল্লেখ্য, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটাই ছিল তুর্কি তরুণ গুলেরের প্রথম গোল।
বিরতির ঠিক আগে বিশ্বসেরা দুই স্ট্রাইকার তাদের জাত চেনান। ৩৮ মিনিটে হ্যারি কেনের ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে বায়ার্ন (২-২)। কিন্তু এর ৪ মিনিট পরেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে আবারও রিয়ালকে এগিয়ে দেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ ১১ ম্যাচে এটি ছিল এমবাপ্পের ১৫তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমলেও শেষ দিকে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ৬২ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। হ্যারি কেনকে ফাউল করার পর বায়ার্নকে ফ্রি-কিক নিতে বাধা দিয়ে বল নিয়ে হেঁটে যাওয়ার অপরাধে তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রিয়ালকে চেপে ধরে বায়ার্ন। শেষ দিকে ব্রাহিম দিয়াজ এবং মাইকেল অলিসের দুটি দর্শনীয় গোল বায়ার্নের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের ফলে বায়ার্নের ‘ট্রেবল’ জয়ের স্বপ্ন এখনো টিকে রইল।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর উত্তাপ ছড়ায় মাঠের বাইরেও। মাঠ থেকে আগেই উঠে যাওয়া আরদা গুলের রেফারি স্লাভকো ভিঞ্চিকের সাথে তর্কে জড়ান। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় সাইডলাইনে থাকা অবস্থাতেই তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার সময় পরাজয়ের গ্লানির সাথে গুলেরের সঙ্গী হলো এই বিতর্কিত লাল কার্ডও।
এই পরাজয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রফিহীন মৌসুম কাটানোর শঙ্কা আরও ঘনীভূত হলো। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখ এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্সেনাল অথবা স্পোর্টিং সিপি-র। রিয়ালের এই বিদায় স্প্যানিশ ফুটবলে যেমন শোকের ছায়া ফেলেছে, তেমনি বায়ার্নের আধিপত্য আবারও ইউরোপ সেরা হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল তাদের।
