কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হাতে অপহরণের শিকার হয়েছেন দুই যুবক, যার মধ্যে একজন সিএনজি চালক। অপহরণের একদিন পর কৌশলে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তারা।
অপহৃতরা হলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং উনছিপ্রাং এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দ আলমের ছেলে মো. ওসমান (২২) এবং শাহ আলমের ছেলে মো. আরাফাত (১৮)।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর হ্নীলা বাসস্টেশন থেকে এক বৃদ্ধা নারী যাত্রী লেদা এলাকায় যাওয়ার কথা বলে ১৫০ টাকায় একটি সিএনজি ভাড়া নেন। সিএনজিটি লেদা বক্কর মেম্বারের বাড়ির পাশে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা চালক ওসমান ও তার বন্ধু আরাফাতকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে।
এ সময় তাদের মুখ বেঁধে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ‘আমেনা এন্টারপ্রাইজ’ লেখা সিএনজি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে অপহৃতদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে সারারাত হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়।
এর পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) ভোরে দুর্বৃত্তরা তাদের পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে সুযোগ বুঝে অপহরণকারীরা ঘুমিয়ে পড়লে দুই যুবক শিকলবন্দী অবস্থাতেই কৌশলে পালিয়ে পাহাড়ি পথ ধরে নিরাপদে ফিরে আসেন।
১৫ বুধবার রাতে তারা বাড়িতে ফিরলে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তারা অপহরণের পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। তবে প্রাণে রক্ষা পেলেও তাদের ব্যবহৃত সিএনজি ও দুটি মোবাইল ফোন এখনও অপহরণকারীদের দখলে রয়েছে।
এ ব্যাপারে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী জানান, শিকলবন্দী অবস্থায় অপহরণের আস্তানা থেকে কৌশলে ফিরে এসেছে বলে এলাকাবাসী অবহিত করেছে। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার 