ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে শপথগ্রহণ করে। ঐতিহাসিক সত্তরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। আর প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিতি লাভ করে। এ সরকারে কর্মকা- বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এটি প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এবার কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন নেই।

মুজিবনগরকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকায় ৩৬ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিকমানের পর্যটককেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এখন থমকে আছে। সেখানে নির্মিত হাজার কোটি টাকার স্থাপত্যশৈলী ও অবকাঠামোসহ নির্মিত ভাস্কর্য পড়ে আছে অযতœ-অবহেলায়। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর একদল লোক মুজিবনগরের ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত অনেক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে। ভাঙ্গা ভাস্কর্যগুলো এখন ইতিহাসের নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতাদের নিয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় বিপুলসংখ্যক বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে সরকারের শপথগ্রহণ হয়। সেদিন শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়। এ ছাড়াও মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণকারীদের পরদিন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমাদ পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই অনুষ্ঠানেই এমএজি ওসমানিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এমএনএ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এমএনএ। নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মুজিবনগরকে রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

এই মুজিবনগর সরকারই ৯ মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করে ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকা। এ প্রসঙ্গে মেহেরপুরের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সোনা বলেন, ‘মুজিবনগর সরকারই দেশের ৯ মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করে। এ কারণে মুজিবনগরের গুরুত্ব ঐতিহাসিক। মুজিবনগকে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে সুন্দর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্রস্থান হিসেবে দেখতে চাই। কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে মুজিবনগরকে বাংলাদেশের জন্মস্থান এবং জাতির তীর্থস্থান হিসেবে দেখা উচিত।’

১৯৭১ সালের ওইদিনে দেশের প্রথম সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদানকারী মেহেরপুরের ১২ আনসার সদস্যর মধ্যে জীবিত সদস্য সিরাজ উদ্দিন জানান, ‘মুজিবনগরের ভাস্কর্যশিল্পের মাধ্যমে স্থাপিত গার্ড অব অনার দৃশ্যে ১২ আনসারের বদলে ৮ আনসারকে দেখানো হয়েছে। আমরা সেই দৃশ্যে ১২ আনসারের অবিকল মুখচ্ছবি দেখতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘মুজিবনগর দিবসকে জাতীয় দিবস  ঘোষণা করে দিনটি ছুটি ঘোষণা করা হোক। প্রতিটি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানটি হোক মুজিবনগরে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত