বৈশাখের তপ্ত রোদে একটু শীতল পরশ পেতে বেশ কজন মিলে নেমে পড়েন বানার নদের সচ্ছ টলমল জলে। চলে হাবুডুবু জলকেলি হইহুল্লুর। শিশুদের একটি দল শরীরে উত্তাপ কমাতে পানিতে নেমে গোসল করছিলেন। অল্প কিছুক্ষণ পরেই নদের পাড়ে নেমে আসে বিষাদের কালো মেঘ। বানার নদের টলমলে জলে তুলিয়ে যায় স্কুল পড়ুয়া দুই শিশু। পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা গেলেও অপরজন এখনো নিখোঁজ। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থল যান। উদ্ধার অভিযানে নামেন।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের ৮নম্বর ওর্য়াডের খোঁজেখানি গ্রামের ইসমাইল মেম্বারের বাড়ির পাশে বানার নদে আজ শুক্রবার (১৭এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে এমন সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে স্থানীয়রা এটি শীতলক্ষ্যা নদী হিসেবে চিনে থাকে। এক শিশু বাড়ি গিয়ে ডুবে যাওয়ার খবর দিলে দৌড়ে এসে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এ সময় অপরজন নিখোঁজ হয়ে পড়ে। বিকাল ৬ টায় এ রির্পোট লেখার সময়ও বানার নদের পারে মানুষের ভির ছিল। নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার অভিযান চলছিল। নদের জলে ডুবে মারা যাওয়া একজন হলো সুর্বণা আক্তার (১৬)। সে খোঁজেখানি গ্রামের শ্যামল মোড়লের মেয়ে। সুবর্ণা আক্তার পাশের গোসিংগা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। নিখোঁজ অপর শিশুর নাম মার্জিয়া আক্তার মীম (১৬)। সেও একই গ্রামের মিলন মোড়লের মেয়ে এবং একই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। নিহত সুর্বণার চাচা আকরাম মোড়ল জানান, দুপুরে বাড়ির পাশের নদীতে (বানার নদে) সুর্বনা, মীম ও তার ছোট বোন হামিদা গোসল করতে নামে। এ সময় আরও বেশ কিছু শিশু তাদের সাথে নদে নামে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কাটছিল তারা। হঠাৎ হামিদা দেখতে পায় তারা তলিয়ে যাচ্ছে। পরে দ্রুত উঠে হামিদা বাড়ি এসে খবর দেয়। পরে বাড়ির লোকজন গিয়ে সুর্বণাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তবে এ সময় মীম নিখোঁজ হয়। তিনি বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল। তাদের মৃত্যুতে এলাকা শোকে মুহ্যমান।
গোসিংগা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জানান, বেশ কয়েকজন শিশু গোসল করতে পানিতে নামে। পরে দুই শিক্ষার্থী তলিয়ে যায়। তারা একই পরিবারের ছিল। দুই স্কুল শিক্ষার্থীর এমন করুন মৃত্যুতে এলাকায় শোক নেমে এসেছে। দুটি পরিবারের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। নদীর পাড়ে আসা মানুষ কাঁদছে এ মৃত্যুর খবরে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল অভিযানে নামে। তিনি বলেন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়ও নিখোঁজ শিশু মীমের মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। ডুবুরি দলের দুই সদস্য মরদেহ অনুসন্ধ্যান করছেন। নদীতে পানির স্রোত থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান, পানিতে ডুবে দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর শুনেছি। ডুবুরি দল কাজ করছে। একজন এখনো নিখোঁজ। স্বজনরাই একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর রাখছি।
