নিজ আঙিনার ফুটবলের চেয়ে বাফুফের দৃষ্টি বেশি কাড়ছে বহির্বিশ্ব। অন্তত একজন ব্যক্তির চোখ অহর্নিশ খুঁজে বেড়ায় সারা দুনিয়া। কোথায় কোনো বংশোদ্ভূত ফুটবলারের সন্ধান পেলেই সবার আগে যোগাযোগ করে বাহবা কুড়ানোতেই ঝোঁক বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমের। শুক্রবার বেশ ঘটা করেই নিজ সামাজিক মাধ্যমে দিলেন এক প্রতিভা খুঁজে তাকে শতভাগ বাংলাদেশি বানানোর উদ্যোগের ঘোষণা। ফাহাদ এখন ব্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ট্রেভর ইসলামকে নিয়ে। অথচ অনেক আগে থেকেই ট্রেভরকে নিয়ে কাজ করছিল ফুটবলার এজেন্ট হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান কনফিয়েনজা।
যে মাধ্যমেই হোক, বড় খবর হলো, হামজা, শমিতদের পথ অনুসরণ করে এবার বাংলাদেশমুখী হতে যাচ্ছেন ট্রেভর। ফাহাদের দাবি, বাংলাদেশি পাসপোর্ট অচিরেই পেয়ে যাবেন এই স্ট্রাইকার। আর বাংলাদেশের জার্সিতে তার অভিষেকের প্রবল সম্ভাবনা এ বছর শেষভাগে। সবচেয়ে বড় খবর, এতদিন পর বাংলাদেশ স্ট্রাইকার পজিশনে একজনকে পেতে যাচ্ছে। তাতে নাম্বার নাইনের আক্ষেপ ঘুচবে কি না তা ট্রেভর খেলা শুরু করলেই বোঝা যাবে।
ট্রেভরের জন্ম ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। দাদা বাংলাদেশি সুবাদে দেশের সঙ্গে আছে যোগসূত্র। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফুটবল দল স্ট্যানফোর্ড কার্ডিনালের হয়ে খেলছেন এই তরুণ। গত বছর আটলান্টিক কোস্ট কনফারেন্সের কো-অফেন্সিভ প্লেয়ার অফ দ্য উইক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। স্ট্যানফোর্ডের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে নিয়মিত গোলের রেকর্ড আছে তার। গোল করার দক্ষতার কারণে তাকে অনেকে ‘ফক্স ইন দ্য বক্স’ নামেও ডাকেন। শুক্রবার ফাহাদ করিম জানান, এরমধ্যেই ট্রেভর ও তার পরিবারের জন্মসনদ প্রস্তুত করে ফেলেছেন, ‘গত বছর ডিসেম্বরে আমাকে জাতীয় দলের আরেক খেলোয়াড় জায়ন আহমেদের বাবা শরিফ ভাই জানান, ট্রেভর ইসলাম ফেডারেশনের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান। ডিসেম্বরের ১২ তারিখে তার সঙ্গে প্রথম হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়। গতকাল রাতেও হয়েছে। তার সম্মতি নিয়ে ডিসেম্বরেই আমরা ডকুমেন্টেশনের কাজ শুরু করি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি তার এবং তার গ্র্যান্ড পেরেন্টদের জন্মসনদ আমরা প্রস্তুত করে ফেলেছি। অতি শিগগিরই আমরা ওর পাসপোর্ট আবেদনের ব্যবস্থা করব লস অ্যাঞ্জেলেসে কনসুলেট অফিসে। আশা করছি মে মাসের মধ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাবে।’
তবে এখনই ট্রেভরকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফিজিক্স নিয়ে পড়ালেখা করছেন ট্রেভর। এ বছরই শেষ হবে তার গ্র্যাজুয়েশন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব দলের হয়ে নিয়মিত খেলছেন। সব মিলিয়ে সামনের ফিফা উইন্ডোগুলোতে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবেন না জানিয়েছেন ফাহাদকে, ‘ট্রেভর প্রথমেই বলেছিলেন এ বছর তার জন্য বাংলাদেশে খেলা অনেক কঠিন হবে। কারণ পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবল দলে তার যে কমিটমেন্ট সেটা তিনি পুরোপুরি শেষ করতে চান। তারপরও আমরা তাকে সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে খেলতে অনুরোধ করব। তারপরও যদি না হয়, তবে অবশ্যই তিনি আগামী বছর শুরু থেকেই খেলবেন।’