শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ থাকছে

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২১ এএম

ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গতকাল শুক্রবার এক্স-পোস্টে এ ঘোষণা দেন।

আরাঘচির ঘোষণা অনুযায়ী, লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য’ হরমুজ প্রণালিতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ইতিমধ্যে ঘোষিত সমন্বিত পথ ধরে চলাচল করতে হবে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের এ যুদ্ধবিরতি বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার রাত ৩টা থেকে শুরু হয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তবে তিনি লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নাম ঘোষণায় উল্লেখ করেননি। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধ চলছিল। লেবাননে এ যুদ্ধ থামানো ইরানের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অন্যতম শর্ত হিসেবে রয়েছে।  

পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হরমুজ প্রণালি হয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ ভাগ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। 

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের ঘোষণাকে ট্রাম্প গতকাল স্বাগত জানান। তবে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি এবং ‘লেনদেন’ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে লেনদেন ১০০ ভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শুধু ইরানের ক্ষেত্রে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ বলবত থাকবে।’

ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, চুক্তি সই হওয়াসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া ‘খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে’, কারণ অধিকাংশ বিষয় আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ কথা বলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ফের আলোচনা ও একটি চুক্তি সইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ইসলামাবাদে বসতে রাজি করিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন চালানোর পর এ যুদ্ধ শুরু হয়। গতকাল ছিল এ যুদ্ধের ৪৯তম দিন।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন।

ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে। এতে করে দেশ দুটি একটি চুক্তি সইয়ের বিষয়ে খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। 

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হতো যে, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তারা এ বিষয়ে পুরোপুরি একমত হয়েছে। ইরান প্রায় সব বিষয়েই রাজি হয়েছে, এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, তারা এখন আলোচনার টেবিলে বসলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হতে পারে।    

চুক্তি সইয়ের জন্য তিনি পাকিস্তান যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যেতে পারি। হ্যাঁ, যদি চুক্তিটি ইসলামাবাদে সই হয়, তবে আমি হয়তো সেখানে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে প্রথম পর্বের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষভাবে চলমান এ আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গত বৃহস্পতিবার তেহরান গেছেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েত সফরে রয়েছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে বলেন, এই দুটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম-প্রধান দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি করতে চায়। সামরিক কমান্ডার, রাজনীতিবিদ, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে দেশ দুটি ইরানসহ পুরো অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধেও দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত