বোয়ালমারীতে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনে স্বস্তিতে কৃষক

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ এএম

ফরিদপুরের বোয়ালমারী অঞ্চলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের পেছনে রয়েছে অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার। পাশাপাশি সঠিক সময়ে চাষাবাদ, সেচ ও পরিচর্যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকদের সচেতনতা ও কৃষি বিভাগের সহায়তাও এই সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে।

তেমনি বাজারদরও রয়েছে কৃষকের অনুকূলে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় শতাংশ প্রতি খরচ কমে এসেছে, ফলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখার আশা করছেন।

উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নে পেঁয়াজ উৎপাদন অপেক্ষাকৃত বেশি। এই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সবচেয়ে বেশি এবং উন্নতমানের  পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

রূপাপাত ইউনিয়নের বনমালীপুর গ্রামের কৃষক পার্থ কুমার ম-ল জানান, ‘এবার পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়  রোগবালাইও কম ছিল। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের পেঁয়াজ উৎপাদন অনেক বেশি’ একই গ্রামের কৃষক আনিচুর রহমান জানান, ‘এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ফলন হয়েছে।’

একই ইউনিয়নের সুতালিয়া গ্রামের আরেক পেঁয়াজচাষি সাধন হীরা জানান, ‘গত বছরের তুলনায় এবার শতাংশপ্রতি উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি শতাংশে এবার সাড়ে তিন মণের মতো পেঁয়াজ পেয়েছি। গত বছর দুই মণের মতো পেয়েছিলাম। পেঁয়াজ এখনই সব বিক্রি না করে ঘরে রেখে দিয়েছি। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে এটা আশা করছি।’ বাজিতপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘এবার আমাদের গ্রামের সবাই এত পেঁয়াজ পেয়েছে যে, সব বাড়ির উঠানেই টিনের ছাপড়া নয়তো শামিয়ানা টাঙিয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলনে আমরা আশাবাদী। দামও ভালো আছে এবং ভবিষ্যতে বাড়বে।’

গ্রামে ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষকই তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ এখনই বিক্রি না করে বসতঘরের পাটাতন কিংবা উঁচু মাচা তৈরি করে সংরক্ষণ করছেন। দু-এক মাস পর বাজারদর আরও বাড়লে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন।

কৃষিসংশ্লিষ্টরা ভাবছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, সময়মতো রোপণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শের কারণে এ বছর পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত