সানেমের অনুষ্ঠানে ড. দেবপ্রিয়

পরিকল্পনা তৈরি করা বাস্তবায়নের চেয়ে সহজ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৯ এএম

সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি করা এটি বাস্তবায়নের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। এটি বাস্তবায়ন করাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন, অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল রবিবার তিন দিনব্যাপী নবম সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) বার্ষিক অর্থনীতিবিদ সম্মেলনের শেষ দিন ‘সংস্কার নিয়ে মোহ : বাংলাদেশের গল্প’ শীর্ষক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পরিবর্তিত বিশ্বে উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ এবং নীতিগত পদক্ষেপ।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। নির্ধারিত আলোচক ছিলেন সাবেক অর্থসচিব ও বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সংস্কার পরিকল্পনা প্রণয়ন নয়, বরং সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন। দুর্বল রাজনৈতিক অঙ্গীকার, দুর্বল সমন্বয়, গোষ্ঠী স্বার্থ ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে অনেক ভালো সংস্কার উদ্যোগই ব্যর্থ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার এবং অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সংস্কারের পরিকল্পনা তৈরি করা এটি বাস্তবায়নের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। এটি বাস্তবায়ন করাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ।’ সংস্কারকে ‘রোমান্স’র সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আশা, সংগ্রাম, বাধা-বিপত্তি, ধৈর্য ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সংস্কার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া যা প্রেক্ষাপট, নেতৃত্ব ও জনমতের ওপর ভিত্তি করে রূপ পায়।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, প্রায়ই সংকট, বাহ্যিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রতিষ্ঠান, বৈষম্য বা দুর্নীতির ফলে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তবে এর সাফল্য নির্ভর করে সংস্কারের পরিধি, পর্যায়ক্রমিক বিন্যাস, গতি এবং এসব সংস্কারের ওপর সংশ্লিষ্টদের মালিকানাবোধের ওপর।

বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ঋণখেলাপিরা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছে। সংস্কারের পথে তারা নিজেরাই বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে সমস্যাটি ব্যক্তিনির্ভর নয়, বরং কাঠামোগত। আর সংস্কার মানে শুধু আইন প্রণয়ন নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, প্রথমে আইন হবে, তারপর তা বাস্তবায়নের জন্য হবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো। এরপর হবে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সবশেষে ফলাফল মূল্যায়ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত