শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দেশের ১৬৩ উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন। সারা দেশের ১৬২টি উপজেলায় ইতোমধ্যে আইসিটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রস্তাবিত জায়গায় আইসিটি ভবনের নির্মাণ কাজে বারবার বাধা দেওয়ার কারণে আটকে আছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউআইটিআরসিই-২ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ১০ শতাংশ জমি আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য নির্বাচিত করে প্রস্তাবনা পাঠান তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে রুমানা তুয়া। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে অনুমোদিত সারা দেশের ১৬৩ টি আইসিটি ভবনের মধ্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাতে একটি আইসিটি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়।
তবে বিপত্তি বাধে আইসিটি ভবনের নির্মাণকাজ শুরুর সময় ২০২৩ সালে। সেসয়ম স্থানীয় মকবুল হোসেন (৪৫) গংরা প্রস্তাবিত জায়গায় আইসিটি ভবন নির্মাণে বাধা দেন। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ জায়গার মাঝে পৈতৃক সূত্রে সাড়ে ৪ শতাংশ জমির মালিক তারা। তখন থেকেই থেমে যায় আইসিটি ভবনের নির্মাণ কাজ। এরপর একাধিকবার আইসিটি ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হলেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় মকবুলের পরিবার।
এ নিয়ে জানতে চাইলে মকবুল হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত আইসিটি ভবনের সাড়ে ৪ শতাংশ জায়গার মালিক দলিল মূলে আমার বাবা মৃত মতিউর রহমান। এই জায়গায়তেই আছে আমাদের পারিবারিক কবরস্থান। ঈশ্বরগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে আমরাও চাই এখানে আইসিটি ভবন হোক, কিন্তু আমাদের পৈত্রিক জায়গা অধিগ্রহণ ছাড়া ভবন নির্মাণে আমরা বাঁধা দিয়েছি। এটা আমাদের আইনগত অধিকার। প্রশাসন যদি আমাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ভবণ নির্মাণ করে তাহলে কোনও আপত্তি নেই।
এ বিষয়ে আইসিটি ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা কোরিয়ান হোবান ইএনসি কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার কৌশিক রঞ্জন সরকার বলেন, ইউএনও অফিস থেকে আমাদের এই জায়গা বোঝিয়ে দেওয়া হয়েছে আইসিটি ভবন নির্মাণের জন্য। স্থানীয় মকবুল হোসেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পক্ষে ভবন নির্মাণ কাজ সম্ভব নয়। বিষয়টি আমাদের কোম্পানি উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশকে অবগত করেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, উপজেলা পরিষদের ১ একর ৭৪ শতাংশ জায়গার অধীনেই আইসিটি ভবনের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। আইসিটি ভবনের কাজে বাধা প্রদানের এখতিয়ার কারও নেই। কেননা বিআরএস রেকর্ডমূলে উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি মহল বেআইনিভাবে আইসিটি ভবনের কাজে বাধা দিচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, আইসিটি ভবনটি হলে ঈশ্বরগঞ্জের আপামর জনগণ তার সুফল পাবে। সরকারি বরাদ্দ ফেরত গেলে পিছিয়ে থাকবে ঈশ্বরগঞ্জের মানুষ। ভবনটি উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই করা হচ্ছে। সরকার ৪০ বছর আগে এই জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। যারা বাধা দিচ্ছে প্রাথমিকভাবে তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তবুও যদি তাদের কিছু বলার থাকলে আদালত থেকে স্টে আনতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগতভাবেই দ্রুত সময়ের মধ্যে আইসিটি ভবনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদের জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। যারা এটি তাদের জায়গা বলে দাবি করছে তাদের তো কাগজপত্রে প্রমাণ করতে হবে যে এটি তাদের জায়গা। কিন্তু মুখে নিজেদের জমি দাবি করে সরকারের নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করা যাবে না। প্রস্তাবিত জায়গাতেই আইসিটি ভবন নির্মিত হবে।
