কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার জোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ 'হরমুজ প্রণালী'র নিরাপত্তা ও নৌ-পরিবহন স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান এবং ওমানের মধ্যে একটি বহুপ্রতীক্ষিত চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে মধ্যস্থতার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে খবরটি জানিয়েছে বিবিসি।
মজিদ আল-আনসারি জানান, আঞ্চলিক উত্তাপ কমানো এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে তার আগে ইরান-ওমান চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা প্রয়োজন।
এদিকে, ইরানি পাইলটদের নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক জলঘোলা নিরসনে কাতারের পক্ষ থেকে তেহরানের প্রতিনিধি দলকে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও এই আমন্ত্রণে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ইরান।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরুতে নিজস্ব বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানবাহিনীর তিন পাইলটকে কাতার আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ এনেছিল তেহরান। এ যুদ্ধে চতুর্থ পাইলটের মরদেহ ইতোমধ্যে উদ্ধার করে ইরানের কাছে হস্তান্তর করেছে কাতার।
তবে কাতারি কর্তৃপক্ষের দাবি, পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা প্রশমনে তারা সবসময় আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায় বলে জানান মুখপাত্র।