আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আগের দিনের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দেওয়ায় তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। মঙ্গলবার লন্ডনের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ৯৪.৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.১১ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৮.৫০ ডলারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রত্যাশাই এই দরপতনের প্রধান কারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হতে পারে—এমন আশাবাদ তৈরি হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। যদিও এর আগে সোমবার ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা এবং মার্কিন জাহাজ জব্দের ঘটনায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে চলতি সপ্তাহে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে তেহরান পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অবরোধ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে 'যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন' আলোচনার অগ্রগতিতে বাধা দিচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের হুমকির মুখে তারা আলোচনায় বসবেন না।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম কিছুটা কমলেও সরবরাহের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কুয়েত ইতোমধ্যে তাদের তেল রপ্তানিতে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এই সংকট এক মাস অব্যাহত থাকে, তবে প্রায় ১৩০ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি তেলের লাগামহীন দামের কারণে বৈশ্বিক চাহিদাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। উচ্চমূল্যের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা ইতোমধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এবং তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সময় লেগে যেতে পারে। আপাতত সবার নজর এখন চলতি সপ্তাহের শান্তি আলোচনার ফলাফলের দিকে।
সূত্র: রয়টার্স
