এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের যে আক্রমণভাগ মাঠে নামতে যাচ্ছে, তার বাজারমূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য এক আক্রমণভাগ নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে ফরাসিরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে শুরু করে উদীয়মান তারকা দেজিরে দুয়েÑ দিদিয়ের দেশমের হাতে প্রতিভার যে ছড়াছড়ি, তাতে কোচকে চিন্তায় পড়তে হচ্ছে কাকে রেখে কাকে একাদশে নামাবেন তা নিয়ে। আগামী ১৬ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্স তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।
অমিত সম্ভাবনাময় এই আক্রমণভাগের নেতৃত্বে আছেন ২৭ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্তমানে ফরাসি অধিনায়ক হিসেবে তার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ২০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২৩৬ মিলিয়ন ডলার)। জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ গোল করা অলিভিয়ের জিরুডকে ছাড়িয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা হওয়ার জন্য এমবাপ্পের প্রয়োজন আর মাত্র ১টি গোল।
ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’ এবং ‘সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরি’র তথ্যমতে, ফ্রান্সের সম্ভাব্য ১০ জন ফরোয়ার্ডের মোট বাজারমূল্য ৮৫৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। এই তালিকায় এমবাপ্পের পরেই আছেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মাইকেল অলিস। বায়ার্নের হয়ে বুন্দেসলিগা জেতা এই তারকার মূল্য ১৪০ মিলিয়ন ইউরো।
পিএসজির তরুণ তুর্কি ২০ বছর বয়সী দেজিরে দুয়ে ১১৫ মিলিয়ন ইউরো এবং অভিজ্ঞ উসমান ডেম্বেলে ১০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের ট্যাগ নিয়ে দলে আছেন। এছাড়াও চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে নজর কাড়া ব্র্যাডলি বারকোলা (৭০ মিলিয়ন ইউরো) এবং টেকনিক্যালি দারুণ দক্ষ রায়ান চেরকি (৬৫ মিলিয়ন ইউরো) ফরাসি আক্রমণভাগকে করেছে দুর্ধর্ষ।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে লিঁওর হয়ে নজরকাড়া রায়ান চেরকি এখন ম্যানচেস্টার সিটির অন্যতম বড় ভরসা। গত রবিবার আর্সেনালের বিপক্ষে তার একক নৈপুণ্যে করা গোলটি মুগ্ধ করেছে খোদ পেপ গার্দিওলাকেও। বিশ্বকাপের মঞ্চে চেরকি তার সহজাত পাসিং দক্ষতা দেখাতে পারলে তার বাজারমূল্য রকেটের গতিতে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোনাকোর হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাগনেস আকলিউশ মাঝমাঠ থেকে ঝড়ের গতিতে আক্রমণে উঠতে পটু। তার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫০ মিলিয়ন ইউরো। একই মূল্যের তালিকায় আছেন ইন্টার মিলানের মার্কাস থুরাম। হেডিং এবং ফিজিক্যাল ফুটবলে থুরাম দেশমের অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে নিয়মিত গোল করা জঁ-ফিলিপ মাতায়েতা (৩৫ মিলিয়ন ইউরো) এবং টটেনহ্যামে লোনে থাকা রান্ডাল কোলো মুয়ানি (৩০ মিলিয়ন ইউরো) ফ্রান্সের বেঞ্চকে করেছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই সুযোগ মিস করা কোলো মুয়ানি এবার হয়তো চাইবেন সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে।