শেরপুরের নকলায় জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে ভুট্টা মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক এবং মারাই কল মালিকরা। সময় মতো ভুট্টা মাড়াই করতে না পারায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের। বিশেষ করে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংকটে কৃষকদের ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই চলছে।
কৃষকরা জানান, মাঠে ভুট্টা কাটার উপযুক্ত সময় কিন্তু তেলের অভাবে মাড়াই কল চালাতে পারছে না মালিকরা। ফলে উৎপাদিত ভুট্টা সময়মতো ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত শ্রম ও খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এদিকে কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ খান বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (বিএস) চাহিদা অনুযায়ী মাড়াই কল (বোম) মালিকদের মাঝে ডিজেল বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিলার এবং পাম্প কর্তৃপক্ষকে, যাতে ভুট্টা মাড়াই কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডিলার ও পাম্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাড়াই কল মালিকসহ সেচ কাজে নিয়োজিত সকলের মাঝে সঠিকভাবে তেল বিতরণের জন্য। যাতে কোনো কৃষক হয়রানির শিকার না হন।
তবে মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং মারাই কল মালিকদের অভিযোগ, নির্দেশনা থাকলেও অনেক এলাকায় এখনও চাহিদামতো তেল দিচ্ছে না। এতে ভুট্টা মাড়াইয়ে বিলম্ব হওয়ায় কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি চাহিদা মতো জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে ভুট্টা মাড়াই স্বাভাবিক হবে এবং তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
এদিকে পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর এবং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের ভুট্টা মাড়াই কল মালিক মো. সুমন রানা, মো. লাল মিয়া, মো. সাইদুল ইসলাম ও রাজু মিয়া জানান, তেলের অভাবে মাড়াই যন্ত্র এবং পাওয়ার টিলার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষকরা আমাদের মাড়াই যন্ত্র আটকে রেখেছে। পাম্পে গেলে ১ হাজার টাকার উপরে তেল দেয় না। কিন্তু প্রতিদিন একটি মাড়াই যন্ত্রের তেলের চাহিদা প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার।
হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু 