চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বোরো ধান কাটার মৌসুমে উৎসবের আমেজ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টির কারণে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও জোয়ার-পানির প্রভাবে শত শত একর পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দিন ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে উপজেলার প্রায় ৫৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পাশাপাশি কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য রাখা ধানও ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, ধান কাটার শুরুতেই এমন দুর্যোগে তাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। বর্তমানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাশাপাশি তিন বেলা খাবার এবং অতিরিক্ত খরচ বহন করেও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন, যার মধ্যে ১২ কানি জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক এসএম বাবর বলেন, ‘আমার ১২ একর জমির মধ্যে ৬ একর ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দেড় লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হবে।’ একই ধরনের ক্ষতির কথা জানান কৃষক বিমলেন্দু বড়ুয়া, জিষু বড়ুয়া ও সোন ঘোষ।
জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকার কৃষক বাসু চৌধুরী বলেন, ‘বৃষ্টি শুরুর আগের দিন ধান কেটেছিলাম, কিন্তু ঘরে তুলতে পারিনি। সব শেষ হয়ে গেছে।’
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বেন।
ক্লান্ত শিক্ষার্থী উদ্বিগ্ন পরিবার