ফেনী জেলা যুবদলের কমিটি স্থগিত, পৌর সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার

আপডেট : ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

এ ঘটনায় জেলা যুবদলের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে ও  পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।  একইসঙ্গে সব ওয়ার্ডের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেনী জেলা যুবদলের সাংগঠনিক ইউনিট সমূহে সঠিক তদারকিতে ব্যর্থতা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বিনষ্টের অভিযোগে ফেনী জেলা যুবদলের বিদ্যমান কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
এ ছাড়া গত ৩০ এপ্রিল ফেনী পৌর যুবদলের ৪নং ওয়ার্ডের ঘোষিত কমিটিতে ২০১৭ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করায় ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি এ কে এম জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোন ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবেনা। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

এদিকে গত রবিবার (৩ মে) ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি নাসির উদ্দিন খোন্দকার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার আসামি সুজন যুবদলের একজন পরীক্ষিত কর্মী। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা বিএনপি ও যুবদলের শীর্ষ নেতারা অবগত আছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলার আসামি গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয় । এ কমিটির প্রতিবাদে ৮ সদস্যের ৬ জনই একযোগে পদত্যাগ করেন। তারা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী আবদুল কাদের নয়ন, সহ-সভাপতি মো. সবুজ, যুগ্ম সম্পাদক সাধারণ মো. মিল্লাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহিদ, প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন রুবেল, দপ্তর সম্পাদক ডালিম মজুমদার। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার (২ মে) নবগঠিত ঐ কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই একযোগে পদত্যাগ করেছেন। 

গত রবিবার (৩ মে) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে বিতর্কিত সেই ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামিকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ব্যাখা দিতে তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপাল এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১৭৮ জনকে আসামি করে ফেনীর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলনের দায়ের করা এই মামলায় সুজন ২৫ নম্বর আসামি। নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামির অধীনে রাজনীতি করা সম্ভব নয়—এমন দাবি তুলে শনিবার ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি ৬ নেতা পদত্যাগপত্র জমা দেন।

অভিযুক্ত এনামুল হক সুজনের দাবি, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত