দীর্ঘ ১৭ বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম সফল ও প্রাণবন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, পুলিশের বর্তমান পোশাকটি অনেকের কাছেই মানানসই মনে হচ্ছে না। তাই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতে এবং জনবান্ধব ইমেজ তৈরিতে আগের খাকি রঙের প্যান্টসহ পোশাকের পুরনো কাঠামো ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইিনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রথম অধিবেশনকে ব্যর্থ দাবি করার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সংসদের প্রথম অধিবেশনই ছিল বেশ ‘লাইভলি’ ও ‘ভাইব্রেন্ট’, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এই সংসদে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে। যদিও বিতর্কের সংখ্যা সর্বাধিক না হলেও আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়ই তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করেছে। যৌথভাবে কমিটি গঠন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মতামত প্রদানের বিষয়টি জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে।
গণতন্ত্রে মতবিরোধ ও ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। বিরোধী দল তাদের মতামত প্রকাশ করেছে, পাশাপাশি সরকারও তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে। এই ধরনের বিতর্কই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। সব মিলিয়ে বর্তমান সংসদে মতবিনিময়, সহযোগিতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সারাদেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সেজন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করেছি যে, এই ড্রেসটা কীভাবে হয়। একটা ঐতিহ্যবাহী ড্রেস যাতে দেওয়া যায়, সেটাও বিবেচনা করেছি। আগের শার্ট যেটা কি বলব, ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারাদেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি। এই হিসেবে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে দিয়েছি। সেটা তাদের পরিধান করতে আর কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ, এটা প্রস্তুতির বিষয় আছে, কাপড় প্রোডাকশনের বিষয় আছে, জামার বিষয় আছে। এটা এখনো আমরা অফিসিয়ালি ঘোষণা করিনি, তবে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আজ ঘোষণা দিলাম। একজন সাংবাদিককে গতকাল বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আচ্ছা আমি বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখি।’
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনা, যৌথ অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই সময় ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। বিচারিকপ্রক্রিয়ায় আদালত কাকে জামিন দেবেন বা দেবেন না, তা সম্পূর্ণ আইনের বিষয়। তবে জামিন পেলেও কোনো অপরাধী পার পাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।