আরব বিশ্বের দেশ লেবানন তাদের পার্লামেন্টে মৃত্যুদন্ডের বিধান বাতিল করেছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন ও কঠোর শ্রমের বিধান চালু করেছে দেশটি। গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে আইনটি পাস হয়। এর ফলে আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান বাতিল করল লেবানন। বার্তা সংস্থা আরব নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় এই ছোট দেশটি ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ওপর আনুষ্ঠানিক নয়, এমন একটি স্থগিতাদেশ মেনে আসছে। তবে এরপরও দেশটিতে কয়েক ডজন মৃত্যুদন্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। পরে সেগুলো স্থগিত কিংবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের অধিকাংশ সদস্য মৃত্যুদন্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লকের সদস্যরা এতে সমর্থন দেননি। পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মৃত্যুদন্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা পুরোপুরি মৃত্যুদন্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’ তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদন্ড তার নিষ্ঠুরতা ও অপরিবর্তনীয়তার দিক থেকে অনন্য। এই শাস্তির ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত এবং ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে।’ তবে নতুন শাস্তি হিসেবে কঠোর শ্রম কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, নতুন শাস্তির বিস্তারিত বিধান এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। প্রসঙ্গত, লেবাননের আইনে এবং আদালতের বিভিন্ন রায়ে কঠোর শ্রমের শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড় এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতির কারণে এই শাস্তি খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।