সমুদ্র পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্যময় জগৎ, যার প্রায় ৯৫ শতাংশ আজও অজানা। বিশাল জলরাশির নিচে লুকিয়ে আছে হাজারো প্রজাতির অদ্ভুত প্রাণী, গভীরতম মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, আগ্নেয়গিরি এবং তীব্র চাপে টিকে থাকা ভিন্ন এক বাস্তুতন্ত্র। মানুষ মহাকাশ সম্পর্কে যতটা জানে, তার চেয়েও কম জানে সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে। সমুদ্রের পানির নিচে প্রায় ২০ লাখ প্রজাতি থাকলেও বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার প্রজাতি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। সমুদ্রের ২০০ মিটার গভীরের পর আলো পৌঁছায় না। আর ১০০০ মিটারের নিচে ঘুটঘুটে অন্ধকার ও প্রচণ্ড ঠা-া। এই চাপ মানবদেহকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে পারে। এই মহাসাগরের তলদেশে প্রায় ১১ হাজার ৩৪ মিটার গভীর স্থানটি পৃথিবীর পাতাল বিন্দু, তার নিচে কী আছে তা আজও রহস্য। ১৯৯৭ সালে প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে অত্যন্ত শক্তিশালী ও রহস্যময় শব্দ শনাক্ত করা হয়েছিল, যা কোনো বিশাল প্রাণী নাকি অন্য কিছুর, তা আজও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অবাক বিষয় হচ্ছে, গভীর সমুদ্রে এমন অনেক প্রাণী আছে, যা আলো উৎপন্ন করতে পারে এবং এদের গঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানী এবং ডুবুরিরা সাবমারসিবল বা বিশেষ ডুবোযান ব্যবহার করে, গভীর সমুদ্রের অজানা জগৎকে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সমুদ্রেও নাকি সোনা আছে। তাও মিলিয়ন টন। তবে তা অস্পৃশ্য। চাইলেও সাগরের তলদেশ থেকে সোনা উদ্ধার সম্ভব নয়। সমুদ্র গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের সাবমারসিবলের ব্যবহার দিন দিন বেড়ে চলেছে। গভীর সমুদ্রের বিশাল জগৎ আমাদের অজানা।