নাটোরের গুরুদাসপুরে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ মে) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে পৌরসদরের খামারনাচকৈড় সরকারি জোহা কলেজের সামনে একই কৌশলে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাচঁকৈড় তালুকদারপাড়ার মো. আনছু প্রামানিক ও জাহের শাহ ভোরে ভ্যানযোগে নয়াবাজার হাটে রসুন কেনাবেচার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে মুখে গামছা পেঁচানো একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি) দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
একই স্থানে ফজরের আজান দিতে যাওয়ার পথে চাচঁকৈড় মধ্যমপাড়া মসজিদের ইমাম মো. মোবিদুল ইসলাম মুবিনও একইভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হন। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকেও নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এদিকে ফজরের নামাজের পর রোকেয়া মোড় এলাকায় হাঁটতে বের হওয়া এক মধ্যবয়সী নারীর গলায় চাপাতি ঠেকিয়ে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে পৌর এলাকায় অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর আগে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি, একই বাড়ি থেকে ছয়টি গরু চুরি, মহিলা কলেজের দুই শিক্ষকের নামে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে কাফনের কাপড় পাঠানো, পুলিশের এক এসআইকে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই, আনসার ভিডিপি ও ভূমি অফিসের ল্যাপটপ চুরি এবং গত ২ মে সরকারি কোয়ার্টারে হাত-পা বেঁধে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছে।
এমন ধারাবাহিক অপরাধে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রেক্ষিতে ৫ মে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুরুল আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মাঠে কাজ করছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
চৌদ্দগ্রামে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা