২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় এখন কেবলই পরিসংখ্যান। ঘরের মাঠে নতুন করে ইতিহাস লিখতে চান বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। আগামীকাল মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে আজ (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনা ও লক্ষ্যের কথা স্পষ্ট করেছেন এই ক্যারিবিয়ান কোচ।
সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডির জয় এখন ইতিহাস। সেই সময় পার হয়ে গেছে। আমরা শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছি এবং নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চাই। অতীতে কী হয়েছে তাতে এখন আর কিছু যায়-আসে না।’ তবে ঘরের মাঠে খেলা হলেও পাকিস্তানের মাটিতে সেই জয় খেলোয়াড়দের মনে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন তিনি। সিমন্সের মতে, ‘শেষ ম্যাচ জয়ের স্মৃতি ভেতরে প্রেরণা দেয়, কিন্তু এটা নতুন ম্যাচ এবং নতুন কন্ডিশন। আমাদের পূর্ণ মনোযোগ এখন মিরপুর টেস্টে।’
এদিকে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও আশাবাদী। তিনি বলেছেন, ‘২০২৪ সালের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল আমাদের অসাধারণ প্রস্তুতি। এবারও আমরা দারুণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১০ দিন কঠোর পরিশ্রম করতে পারলে আবারও সিরিজ জয় সম্ভব।’ সম্প্রতি ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স লাল বলের লড়াইয়ে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করছেন অধিনায়ক।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে নাহিদ রানা যে বাংলাদেশের তুরুপের তাস হতে যাচ্ছেন, তা স্পষ্ট। তবে নাহিদের মতো ‘গতি-সম্পদ’কে আগলে রাখতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। কোচ ফিল সিমন্স তাকে নিয়ে বলেন, ‘নাহিদ রানার সবচেয়ে ভালো দিক হলো তার দারুণ বুদ্ধিবৃত্তিক মানসিকতা। সে জানে, সে এখন কোথায় আছে এবং প্রস্তুতির জন্য তাকে কী করতে হবে। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন তার ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।’
কোচ আরও নিশ্চিত করেছেন যে, নাহিদের ওয়ার্কলোড (কাজের চাপ) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। মিরপুর টেস্টে কত ওভার বোলিং করছেন তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত হবে সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি খেলবেন কি না। সিমন্সের ভাষায়, ‘আমাদের কাছে গতির গুরুত্ব অনেক, তাই নাহিদকে আমাদের যতেœ রাখতে হবে।’
একসময় স্পিনই ছিল বাংলাদেশের মূল শক্তি, কিন্তু সময় বদলেছে। এখন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন পেসাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর প্রধান অস্ত্র তার চার পেসার তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।
কোচ ফিল সিমন্সও পেসারদের নিয়ে রোমাঞ্চিত। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেট থেকে লাল বলের ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জকে তিনি পুরোপুরি মানসিক বলে মনে করেন। তাসকিনের মতে, বাংলাদেশের উইকেট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পোর্টিং। তাসকিন বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডিতে আমি বোলিং উপভোগ করেছি। বাংলাদেশেও এখন পিচ অনেক ভালো হয়েছে। বোলাররা মুভমেন্ট পেলে ভেতর থেকেই বাড়তি প্রচেষ্টা বেরিয়ে আসে।’
২০২৪ সালের সেই রাওয়ালপিন্ডি জয়ের রূপকার মেহেদী হাসান মিরাজ আর পেস ব্যাটারির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবার ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে বাগে আনতে চায় টাইগাররা। সাদা বলের সাম্প্রতিক সাফল্যকে লাল বলের ‘বড় সাফল্যে’ রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
