সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ জনের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতন

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫০ এএম

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে চারজনের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তারা সবাই কৃষি শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। তাদের মৃত্যুর খবর এবং  জানাজা-দাফন ঘিরে এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।

নিহতরা হলেন- গোবিন্দগঞ্জের এনায়েতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের ছেলে আবু সাঈদ (৪৫), ফয়জার রহমানের ছেলে নূর আলম (৪৫), আমিরুল ইসলাম (৪০) এবং কাটাবাড়ি ইউনিয়নের বাগদাকলোনী গ্রামের আব্দুল সামাদ (৫৫)।

আহাজারি করতে করতে আব্দুর সামাদের স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, আগের দিন বিকেলে কাজে যায়। আমি অসুস্থ ছিলাম। ধারদেনা করে ওষুধ কিনেছি। কাজ ফিরে এসে ধার দেনার টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু কাজে যাওয়ার পরেরদিনই সকালে তার মৃত্যুর খবর আসল। আমার পরিবারে আর কেউ নাই। ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কোথায় যাবো। তাদের কি ভাবে লালন পালন করবো। আমাদের এখন কে দেখবে।

এরআগে বগুড়ায় দ্রুত গতির একটি বাস রাস্তায় অপেক্ষমান শ্রমিকদের চাপা দিলে দেওয়ার ঘটনায় মোট ৭ জন মারা যান। এর মধ্যে ৫ জন ছিলেন দিন মজুর। তারা সকালে কাজের সন্ধানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

শুক্রবার সকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে  বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া বাজার এলাকায় বগুড়া-নওগাঁয় আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় মোট ২৪ জন আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নেন। এর মধ্যে বর্তমানে ১৯ জন শ্রমিক আহত হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে চারজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। এছাড়া  আইসিইউ তে ভর্তি আছেন দুইজন যাদের অবস্থা আশংকাজনক।

স্থানীয় ও বগুড়া ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে সাইট দিতে গিয়ে হার্ড ব্রেক করে। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে ধাক্কা খায় এবং ঘুরে গিয়ে রাস্তায় কাজের জন্য অপেক্ষমান দিন মজুর এবং তাদের ভাড়া করতে আসা লোকজনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। আহতদের হাসপাতলের নিলে বাকি তিনজনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। 

প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কৃষি শ্রমিক মো. বোরহান উদ্দিন (৪৫) বলেন, আমরা সকালে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজের সন্ধানে ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ করে দ্রুত গতির একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটা মোটর সাইকেলের সাথে সংঘর্ষ এড়াতে রাস্তার ডান পাশে আমাদের উপরে উঠে যায়। আমি দৌড় দিয়ে কোনো রকমে বেঁচে যাই কিন্তু আমার গ্রামের তিনজন নিহত হন এবং ৬ জন আহত হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত