সুবীর নন্দীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

তার কণ্ঠে ছিল বিষাদ ও প্রেমের আকুতি

আপডেট : ০৭ মে ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

দেশের প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। তার কণ্ঠে থাকত বিষাদ আর প্রেমের আকুতি; যা সমকালীন আর কোনো শিল্পীর মধ্যে মেলা ভার। উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম থাকলেও তিনি নিজেকে গণমানুষের গায়ক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দেশের সংগীত জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র সুবীর নন্দীর সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 তার প্রয়াণে সংগীত জগতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও অপূরণীয়। তবে শরীরী প্রস্থান ঘটলেও দরদমাখা কণ্ঠ আর কালজয়ী গানগুলো তাকে অমর করে রেখেছে কোটি ভক্তের হৃদয়ে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সুবীর নন্দী এক অবিচ্ছেদ্য নাম। চার দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। তার গাওয়া গান ছাড়া এক সময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের পূর্ণতা যেন অসম্ভব ছিল। ‘দিন যায় কথা থাকে’ চলচ্চিত্রের টাইটেল সং গেয়ে তিনি প্রথম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। 

সুবীর নন্দীর ভান্ডারে রয়েছে অসংখ্য মণিমুক্তো। তার প্রতিটি গানই যেন এক একটি ছোটগল্প। ‘হাজার মনের কাছে, ‘আমার এ দুটি চোখ’, ‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা হাসো’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘পাখি রে তুই দূরে থাকলে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান রেখে গেছেন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য সুবীর নন্দী তার জীবদ্দশায় অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। যার মধ্যে একুশে পদক, শ্রেষ্ঠ পুরুষ কণ্ঠশিল্পী বিভাগে রেকর্ড পাঁচবার (১৯৮৪, ১৯৮৬, ১৯৯৯, ২০০২ ও ২০১৫) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত