গত ৭ মে শেষ হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মেয়াদ। ওই দিন মেয়াদ শেষ হলে রাজ্যপাল আর. এন. রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সরকার ভেঙে যাওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই তুলে ধরছেন তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী।
নির্বাচনে পরাজয়ের পরও জনতার রায় মেনে নিতে নারাজ তিনি। মমতার দাবি, ভোটে কারচুপি ও ষড়যন্ত্র হয়েছে, তাই তিনি পরাজিত হননি। সে কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলেও জানান তিনি।
রাজ্যপালের ঘোষণার পর সাংবিধানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে আর নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে তাঁর জীবনবৃত্তান্তে এখনো লেখা রয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী’। ফলে রাজ্যপালের নির্দেশের পরও তিনি প্রতীকীভাবে ক্ষমতার অবস্থান ছাড়তে চান না-এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা এর আগেও রাজনৈতিক পালাবদল দেখেছে। সর্বশেষ বড় পরিবর্তন আসে ২০১১ সালে। ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তখন জনগণের রায় মেনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শান্তিপূর্ণভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। ফল প্রকাশের পর কোনো অভিযোগ না তুলে তিনি রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন এবং পরে প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে জনগণ ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত জানিয়েছে।
এরপর ২০২৬ সালে আবারও পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। বরং স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি হারেননি এবং ইস্তফাও দেবেন না।
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। একজন মুখ্যমন্ত্রীর এমন অবস্থান নিয়ে নানা মহলে সমালোচনাও হয়। তবে নিজের অবস্থান থেকে সরেননি মমতা। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেও আমি ইস্তফা দেব না।’
