শিক্ষার্থীদের এক ইউরোতে পুষ্টিকর খাবার

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ০১:০৭ এএম

উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির চাপে ইউরোপজুড়ে যখন শিক্ষার্থীদের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে, ঠিক তখন শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে বড় ধরনের সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশটির সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক ইউরোতে পুষ্টিকর খাবার পাবেন।

৪ মে থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তকে ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এ সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের বা সরকারি আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। তবে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের আন্দোলন, খাদ্য সংকট নিয়ে বিভিন্ন জরিপ ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় এবার সরকার এটি সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যান্টিনে একটি সাধারণ তিন-কোর্স খাবারের দাম আগে গড়ে ৩ দশমিক ৩০ ইউরো ছিল। যদিও তুলনামূলকভাবে এটি বাণিজ্যিক রেস্তোরাঁর চেয়ে কম, তবুও সীমিত আয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ব্যয় কঠিন ছিল। নতুন নীতির ফলে একজন শিক্ষার্থী মাসে ২০ দিন ক্যান্টিনে খাবার খেলে আগের তুলনায় প্রায় ৪০ ইউরো পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।

প্যারিসের ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী লুয়িন বলেন, আগে মাসে ক্যান্টিনে খেতে প্রায় ৬০ ইউরো ব্যয় হতো। এখন সেটা কমে প্রায় ২০ ইউরো হবে।  শিক্ষার্থীদের জন্য এটি শুধু অর্থ সাশ্রয়ের বিষয় নয়, বরং মানসিক চাপ কমানোরও একটি উদ্যোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থী রোকেয়া আফরিন মনে করেন, বিদেশে পড়তে আসা অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। তিনি বলেন, বিদেশে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি। বাসাভাড়া, পরিবহন, স্বাস্থ্যবীমা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে কষ্ট করতে হয়। এ উদ্যোগ পরিবারগুলোর ওপর কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমাবে।

ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তে এ উদ্যোগকে একটি ছোট অভ্যন্তরীণ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক সংকটের কারণে ক্ষুধার্ত না থাকে। একই সঙ্গে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ফ্রান্সের প্রায় ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে কখনো না কখনো খাবার বাদ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মাসে একাধিকবার তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী খরচ কমাতে পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে চলছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে এক ইউরোর খাবার কর্মসূচিকে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সের বিশ্ববিদ্যালয় রেস্তোরাঁ ও শিক্ষার্থী সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারি সংস্থা ‘ক্রু’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষার্থী এক ইউরো মূল্যের খাবার সুবিধা পেয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরগুলোতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ১২০ মিলিয়ন ইউরো অতিরিক্ত বরাদ্দ দেবে ফ্রান্স সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত