বিশ্বকাপের প্রথম আসর (১৯৩০) থেকে শুরু করে মেক্সিকো এ পর্যন্ত ১৮ বার মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ধারাবাহিক রেকর্ড। তবে মাঠের সাফল্যে তারা বারবার একটি নির্দিষ্ট বৃত্তে আটকে গেছে। মেক্সিকোর বিশ্বকাপের সেরা সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল, এবং কাকতালীয়ভাবে দুবারই (১৯৭০ ও ১৯৮৬) তারা এই পর্যায়ে পৌঁছেছিল ঘরের মাঠে আয়োজক থাকাকালে।
সবচেয়ে বড় আক্ষেপের নাম ‘এল কুইন্টো পার্টিডো’ বা পঞ্চম ম্যাচের লড়াই। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা সাতটি আসরে তারা গ্রুপ পর্ব টপকে নকআউটে গেলেও, প্রতিবারই বিদায় নিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ড (রাউন্ড অব ১৬) থেকে। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তো সেই ধারাবাহিকতাও হোঁচট খেয়েছে; ১৯৭৮ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা বিদায় নেয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।
বিপর্যস্ত সেই অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলতে এবার তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘এল ভাস্কো’ খ্যাত কিংবদন্তি কোচ জাভিয়ের আগুইরেকে। ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে নকআউটে তোলা এই মাস্টারমাইন্ডের ওপর এবার পাহাড়সমান প্রত্যাশা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ মাতানো আগুইরে এবার ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ইতিহাস পাল্টাতে মরিয়া। তার অধীনে মেক্সিকো ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগ ও গোল্ড কাপ জিতে নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। ১৬ বছর পর ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ ফিরে আসায় আগুইরের লক্ষ্য এবার কেবল পঞ্চম ম্যাচ নয়, বরং তারও বেশি কিছু।
অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে শক্তিশালী স্কোয়াড
বর্তমান দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক ভারসাম্যপূর্ণ সংমিশ্রণ। গোলপোস্টের নিচে ৪০ ছুঁইছুঁই গুইলার্মো ওচোয়া এখনো অতিপ্রাকৃত সব সেভ দিয়ে দলকে রক্ষা করে চলেছেন। আক্রমণে ফুলহ্যামের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাউল জিমেনেজ এবং গতির রাজা হার্ভিং লোজানো যেকোনো রক্ষণভাগ তছনছ করার ক্ষমতা রাখেন। মাঝমাঠে ওরবেলিন পিনেদার সৃজনশীলতা এবং রক্ষণভাগে তরুণদের নিটোল সুরক্ষা মেক্সিকোকে দিচ্ছে নতুন এক গভীরতা।
