কারপাল টানেল সিনড্রোম হলো হাতের কবজির একটি স্নায়ুরোগ। আমাদের কবজির ভেতরে একটি সরু পথ (টানেল) আছে, যার মধ্য দিয়ে মিডিয়ান নার্ভ যায়। এই পথ সংকুচিত হলে বা চাপ পড়লে স্নায়ুর কাজ বিঘ্নিত হয়, ফলে বুড়ো আঙুল ও কাছের তিন আঙুলে অসাড়তা, ঝিঁঝিঁ ধরা ও ব্যথা হয়।
কারণ ও লক্ষণ
সাধারণত কবজির অতিরিক্ত ব্যবহার, পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ (টাইপিং, সেলাই, গাড়ি চালানো), আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, গর্ভাবস্থায় তরল জমা, স্থূলতা বা কবজিতে আঘাতের কারণে হতে পারে। লক্ষণ হিসেবে পাওয়া যায় রাতে বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হাতে ঝিঁঝিঁ ধরা, যন্ত্রণা, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মাঝে আঙুলে অসাড়তা। জিনিস ধরতে কষ্ট, কলম বা কাঁটা চামচ পড়ে যাওয়া। হাত দুর্বল লাগা, শেষ পর্যায়ে মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা হিসেবে টিনেল সাইন, ফ্যালেন টেস্ট করে থাকেন। প্রয়োজনে নার্ভ কন্ডাকশন স্টাডি ও ইএমজি, অন্য রোগ নির্ণয়মূলক পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসার জন্য রাতে ও প্রয়োজনে দিনে কবজিতে স্পিøন্ট পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি কবজিকে সোজা রাখে, চাপ কমায়। টাইপিং, মোবাইল চালানো, ভারী জিনিস তোলা কমান। ডাক্তারের পরামর্শে আইবুপ্রোফেন, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। স্পিøন্ট ও ওষুধে কাজ না করলে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হয়। যদি ইনজেকশনেও না কাজ করে তবে কারপাল টানেল রিলিজ সার্জারি করা হয়।
নিজে করণীয় টিপস
হাতের ব্যায়াম করুন। মুঠো করে খুলুন, আঙুল ফাঁক করুন, কবজি ঘোরান। কম্পিউটার ব্যবহারে মাউস ও কিবোর্ড সঠিক উচ্চতায় রাখুন। গাড়ি চালানোর সময় কবজি সোজা রাখার চেষ্টা করুন। গর্ভাবস্থায় হলে প্রসবের পর নিজে থেকেই ভালো হয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
এক সপ্তাহের বেশি অসাড়তা বা ব্যথা থাকলে। রাতে ঘুম ভেঙে যায় এমন ব্যথা, হাত দিয়ে ছোট জিনিস ধরতে সমস্যা হলে। স্পিøন্ট ও বিশ্রামের পরও উপকার না পেলে।
