নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

মানসম্মত ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার অনন্য প্রাণকেন্দ্র

আপডেট : ১১ মে ২০২৬, ০১:০৩ এএম

১৮৫৩ সাল। বাংলার মাটিতে পদার্পণ করলেন একদল নির্ভীক, নিবেদিতপ্রাণ হলিক্রস যাজক। গড়ে তুলতে লাগলেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাঁদের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো এ জাতিকে আলো দেখাচ্ছে শতবর্ষ ধরে। জীবনের সব স্বার্থ ত্যাগ করে তাঁরা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন শিক্ষার জন্য, মানুষের জন্য। এই ধারাবাহিকতায় হলিক্রস ফাদারগণ গড়ে তোলেন নটর ডেম কলেজ, যা আজ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি আলো দেখিয়েছে এদেশের বহু মানুষকে। তাঁদের সেই শিক্ষাদর্শ ও মূল্যবোধকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দিতে গড়ে তোলা হয় নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি)। ২০১৩ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় হলিক্রস ফাদারদের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় নটর ডেম কলেজের দক্ষিণ পাশে স্থাপন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইংরেজি, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন, অর্থনীতি এই পাঁচটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। ২০২৪ সালে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ চালুর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর কলেবর বৃদ্ধি করে। নতুন ভবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন নতুন আরও বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিমধ্যেই সফলভাবে দুটি সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। নটর ডেমের মূল্যবোধকে ধারণ করে এর অ্যালামনাইগণ বালাদেশসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে বিভিন্ন সেক্টরে সাফল্য ও সুনামের সঙ্গে অবদান রেখে যাচ্ছেন। এনডিইউবি শুধু পড়াশোনার জায়গাই নয়, বরং এটি একটি পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্র। বিভিন্ন ক্লাব, কর্মশালা, সেমিনার, খেলাধুলা প্রভৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গড়ে ওঠছে নেতৃত্ব, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ হয়ে। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তারা অর্জন করছে ঈর্ষণীয় সাফল্য। প্রেরণা ও দর্শন হলিক্রস ফাদারদের মূল কর্মপ্রেরণা হলো শিক্ষার্থীদের সার্বিক শিক্ষা দৈহিক, মানসিক ও আত্মিক গঠন। যাজকদের শিক্ষার দর্শন হলো, শিক্ষার্থীরা যেন মানবিক ও প্রযুক্তিগত নানাবিধ-বিষয়ক শিক্ষায় জ্ঞান লাভ করে আমাদের দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতির আলোকে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে ও বিজ্ঞ ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিয়োজিত হতে পারে। সাশ্রয়ী খরচে উচ্চমানের পড়াশোনা শিক্ষার্থীদের সার্বিক গঠন দেওয়ার জন্য হলিক্রস যাজকগণ নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে একটি অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

এই কারণে অগ্রগামী অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইতে এখানকার খরচ অনেক কম। ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার সময় যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করতে পারত এখনো প্রায় সেই পরিমাণই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ধার্য করা হয়। তা ছাড়া দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে স্কলারশিপের যে বিশেষ সুবিধা রয়েছে তা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে অনন্য। দরিদ্র ও মেধাবীদের জন্য স্কলারশিপ ছাড়াও অন্যান্য বেশ কয়েকটি স্কলারশিপের ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণ বা গবেষণার ব্যবস্থা শিক্ষকদের মেধা, দক্ষতা, শিক্ষাদানের নানাবিধ কৌশল ও সহৃদয়তার ওপর নির্ভর করে আমাদের শিক্ষার্থীরা কত বেশি লাভবান হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টশন কর্মসূচি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়।

তাদের জন্য প্রতি সিমেস্টারেই বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ভবিষ্যতে গবেষণার ওপর সবিশেষ জোর দেওয়া হবে। দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়ানোর জন্য আদান-প্রদান বা বিনিময় প্রোগ্রামের ওপরও জোর দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক পরিসরে শিক্ষা সহযোগিতা নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা স্থাপন করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম এবং ভারতের মার্টিন লুথার খ্রিস্টিয়ান ইউনিভার্সিটি অন্যতম। এই সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যৌথ গবেষণা, অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা, অনলাইন সেমিনার এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ার সুযোগ পাবে।

ফলে তারা বিশ্বদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা অর্জন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি এই সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে একটি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ক্যাম্পাস জবের সুযোগ নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে ক্যাম্পাস জবের সুযোগ প্রদান করে। এখানে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক, গ্রন্থাগার, আইটি সাপোর্ট বা ইভেন্ট ব্যবস্থাপনার মতো বিভিন্ন বিভাগে কাজ করে বাস্তব দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এই সুযোগ তাদের দায়িত্ববোধ, সময় ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়া ক্যাম্পাস জবের মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরতা বাড়ায়। নটর ডেমের এই উদ্যোগ কেবল একটি পার্ট-টাইম কাজ নয়, বরং ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের প্রস্তুতিরও অংশ, যা শিক্ষার্থীদের জীবনবোধকে আরও সমৃদ্ধ করে। মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে মাত্র ৫ মিনিট হাঁটার দূরত্ব নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে মাত্র পাঁচ মিনিট হাঁটার দূরত্বে হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা সহজেই ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারে। এই সুবিধা শুধু সময়ই সাশ্রয় করে না, বরং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে আরামদায়ক ও নির্ঝঞ্ঝাট চলাচল নিশ্চিত করে।

এমনকি শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হয়েও এর ক্যাম্পাস একটি সবুজ, শান্ত, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে। এটি পড়াশোনার জন্য আদর্শ আবহ তৈরি করেছে। সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পড়াশোনার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের বাইরের কার্যক্রমও শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রয়েছে সাতটি সক্রিয় ক্লাব। ইংলিশ ক্লাব, বিজনেস ক্লাব, ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ল’ ক্লাব এবং কম্পিউটার ক্লাবের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও সাংগঠনিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিয়মিত সেমিনার, প্রতিযোগিতা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়। শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ তার শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সুপরিচিত।

এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধে অভ্যস্ত হয়। ক্যাম্পাসের পরিবেশে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য শৃঙ্খলা অপরিহার্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ, যথাসময়ে কাজ সম্পাদন ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের প্রতি জোর দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিক অনুশীলন তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য ও নেতৃত্বের পথে এগিয়ে নেয়। কাউন্সেলিং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সহপাঠীকেন্দ্রিক ইত্যাদি যেসব সমস্যা থাকে, সেগুলো সব সময় অন্যদের কাছে বলে ও আলোচনা করে সমস্যাগুলো থেকে উত্তরণের সুযোগ পায় না।

এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে অনেক জটিল সমস্যা থেকে মুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনোযোগী হতে সক্ষম হয় ও জীবনকেও ভালোভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পায়। শিক্ষাবৃত্তি এনডিইউবি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধী, আপন ভাই-বোন, মিশনারি প্রতিষ্ঠান, বিবাহিত দম্পতি, মেধাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রয়েছে ওয়েভার সুবিধা। স্থায়ী ক্যাম্পাস নটর ডেমই বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়, যারা শুরু থেকেই নিজস্ব ক্যাম্পাসে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর পরিসর আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ১৫ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যুগোপযোগী নতুন নতুন অনুষদ ও বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। প্রশ্ন-১ : যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে উপকৃত হতে পারবে? উত্তর : নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি)-এর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম (ইউএনডি) নানাভাবে সহযোগিতা করে আসছে এবং এই সম্পর্ক ক্রমশ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে ইউএনডির বহু অধ্যাপক ও গবেষক এনডিইউবিতে এসে কর্মশালা ও সেমিনার পরিচালনা করেছেন। সর্বশেষ ওখানকার অধ্যাপক ফাদার অলিভার উইলিয়ামস ঢাকায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে ব্যবসায় নৈতিকতা বিষয়ে একটি স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনা করেন। এ ছাড়া দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইনে যৌথ ক্লাস পরিচালনার অভিজ্ঞতাও আমরা অর্জন করেছি। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে, যা আমাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ করে দেয়। এরই অংশ হিসেবে আগামী বছর আমাদের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দুজন শিক্ষার্থীকে গবেষণা ইন্টার্নশিপের জন্য ইউএনডিতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সহযোগিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশভিত্তিক গবেষণায় ইউএনডির গবেষকদের সহায়তা প্রদান। দারিদ্র্য বিমোচন, শরণার্থী পুনর্বাসন, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত নিরাপত্তা, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ওষুধ পরীক্ষার মতো বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশে গবেষণার সময় ইউএনডির অধ্যাপকরা এনডিইউবির সহযোগিতায় উপকৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে এমন প্রত্যাশাই আমরা রাখি।

প্রশ্ন-২ : শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির জন্য নয়, বরং পরিপূর্ণ জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে আপনার দর্শন কী? উত্তর : হলিক্রস শিক্ষাদর্শনের একটি মূল নীতি হলো শিক্ষার প্রক্রিয়ায় একজন মানুষের সম্পূর্ণ সত্তাকে যুক্ত করা। অর্থাৎ ব্যবসা, আইন, কম্পিউটার সায়েন্স বা প্রকৌশলসহ যেকোনো পেশায় দক্ষতা অর্জন করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিও সমান জরুরি। নিঃসন্দেহে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অপরিহার্য, তবে দায়িত্ব¡শীল জীবন গঠনের ভিত্তি তৈরি করাও আমাদের শিক্ষাদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এই উদ্দেশ্যে এনডিইউবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সচেষ্ট।

এই দর্শন বাস্তবায়নে আমরা বিভিন্ন ধরনের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও ক্লাবকে উৎসাহ দিই, যাতে শিক্ষার্থীরা নানামুখী বিষয়ে চিন্তা ভাবনার সুযোগ পায়। এ ছাড়া বাস্তবিক বিভিন্ন জটিল সমস্যাগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকার পাশাপাশি তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা যেন রাখতে পারে আমরা সেদিকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন কেবল এই দেশের নয়, বরং বিশ্বেরও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এজন্য মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলাকে আমরা আমাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখি। বিশেষ করে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নৈতিক বিচারবোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নৈতিকতাই প্রকৃত অর্থে মানবজীবনের পরিপূর্ণ সুখের চাবিকাঠি। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজারিও, সিএসসি। নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? উত্তর : বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে দেশ ও জাতির উন্নতিতে নটর ডেমের অবদান সর্বজনবিদিত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দিন দিন উন্নতি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক সুদূরপ্রসারী। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেমের সঙ্গে আমাদের ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও ভারতের মার্টিন লুথার খ্রিস্টিয়ান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন নতুন প্রোগ্রাম ও বিভাগ শুরু, গবেষণায় জোরদান, গবেষণা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালী করা, ফ্যাকাল্টি ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, স্থায়ী ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবৃদ্ধিকরণ, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু এবং সার্বিক সেবা ও পরিবেশ উন্নত করা।

অনুদান প্রসারণ, উচ্চমানের ফ্যাকাল্টি নিয়োগ, আধুনিক ও উচ্চমানসম্পন্ন গবেষণাকেন্দ্র তৈরিরও পরিকল্পনা রয়েছে। Congregation of Holy Cross I Notre Dame-এর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়-পার্টনারশিপ ব্যবহার করে স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, যৌথ রিসার্চ ও কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট করা আমাদের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া ঘউটই-তে NDUB-†Z Annual International Conference  আয়োজন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

NDUB-কে আগামী ৩ বছরের মধ্যে একটি আধুনিক, গবেষণামুখী, স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দ্রুত বিস্তার ও বাণিজ্যিকীকরণের এই যুগে, নটর কীভাবে শিক্ষার গুণগতমান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে তার মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরে রাখছে? উত্তর : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাণিজ্যিকীকরণের যুগেও নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ শিক্ষার গুণগতমান ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবিচল। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু ডিগ্রি নয়, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও নেতৃত্ব গঠনে বিশ্বাসী। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে জ্ঞান, সততা ও সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সত্য ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিজেদের গড়ে তুলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত